Related products
-
শারিয়াহর আলোকে অনুদান সংগ্রহ ও বণ্টন বিষয়ক নীতিমালা
৳ 4000 Add to cartশারিয়াহর আলোকে অনুদান সংগ্রহ ও বণ্টন বিষয়ক নীতিমালা
ভূমিকা:
যেকোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে- জনসাধারণের পক্ষ হতে প্রদত্ত বিভিন্ন দান-অনুদান, যাকাত/সাদাকাহ ইত্যাদি গ্রহণ করা ও যথাখাতে বণ্টনের দায়িত্ব গ্রহণ করা। এটা অত্যন্ত গুরুদায়িত্ব এবং শারিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে আমানত পালনের অন্তর্ভুক্ত।
উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে দান বা সাদাকাহ না পৌঁছানো পর্যন্ত তা আদায় হবে না। তাই যথাযথ খাতে ব্যয় করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। কোন ধরনের খেয়ানত যেন না হয় সেক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্ক থাকতে হবে। নতুবা দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছনা ও অপমানের সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়াও পরকালে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে জবাবদিহিতার বিষয় তো রয়েছেই। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمْنَتِ إِلَى أَهْلِهَا.
নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের এ আদেশ করছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার পাওনাদারদের পৌঁছে দাও।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লাম বলেছেন:
أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ،
জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
– গ্রহীতা সংস্থার উপর দায়িত্ব হচ্ছে, উক্ত দান, সাদাকাহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং যতদ্রুতসম্ভব উপযুক্ত হকদারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
-
কর্জভিত্তিক ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স গাইডলাইন
৳ 3000 Add to cartইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স গাইডলাইন
ভূমিকাঃ
সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা পূরণে ও তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীকরণে মাইক্রো ফিন্যান্সের ভূমিকা অপরিসীম। তবে বিদ্যমান কনভেনশনাল মাইক্রো ফিন্যান্সে পুঁজিবাদের নানা ক্ষতিকর উপাদান, ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান থাকায় সেটি সামষ্টিকভাবে উপকারী হওয়ার বদলে ক্ষেত্রবিশেষে আরো অপকারী সাব্যস্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স এই সকল সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে সত্যিকার অর্থে গরীব-দুঃখী মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ঐশি বিধানের আলোকে গড়ে উঠার কারণে ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স একদিকে যেমন ত্রুটিমূক্ত, অপরদিকে তা ভারসাম্যপূর্ণ ও ইনসাফভিত্তিক মর্মে বোদ্ধামহলের স্বীকৃতি লাভ করেছে।
ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স পরিচয়ঃ
ইসলামী শারিয়াহর নীতিমালা অনুসরণ করে দেশের সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থান ও সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষে তথা হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এবং তাদের আবশ্যকীয় প্রয়োজন পূরণার্থে যে ক্ষুদ্র অর্থায়ন প্রদান করা হয় তাকে ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স বলে।
গাইডলাইন পরিধিঃ
ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স কার্যক্রম বিশেষত কর্জে হাসানাভিত্তিক মাইক্রো ফিন্যান্স কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের জন্য, সংশ্লিষ্ট মৌলিক শারিয়াহ নীতিমালা নির্দেশ করণার্থে বক্ষমাণ গাইডলাইনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মৌলিকভাবে নিম্নোক্ত বিষয়াবলী আলোচিত হয়েছে-
- ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স প্রতিষ্ঠানের ধরণ
- কর্জভিত্তিক ফান্ডের আয়ের উৎস
- কর্জভিত্তিক ফান্ডের ব্যয়ের ক্ষেত্র
- কর্জে হাসানাহ উসুল পদ্ধতি
- সংশ্লিষ্ট জনবলের বেতন-পারিতোষিক ও আনুষঙ্গিক খরচ
১. ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স প্রতিষ্ঠানের ধরণঃ
আর্থিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে মৌলিকভাবে ইসলামী মাইক্রো ফিন্যান্স প্রতিষ্ঠান তিন ধরণের হতে পারে-
- লাভজনক
- অলাভজনক
- মিশ্র/ হাইব্রিড
-
বই বিক্রি সংক্রান্ত শারিয়াহ নীতিমালা
৳ 1500 Add to cartবই বিক্রি সংক্রান্ত শারিয়াহ নীতিমালা
بسم الله الرحمن الرحيم
ভূমিকা:
১. হালালভাবে অর্থ উপার্জনের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। হালাল ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনে শারিয়াহ উৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি হারাম বর্জনেরও নির্দেশ দিয়েছে। সুতরাং যে ব্যবসায়ী তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শারিয়াহ সমর্থিত নীতিমালা অনুসরণ করে ও ব্যবসার নীতি-নৈতিকতা (Business Ethics) বাস্তবায়ন করে ব্যবসা পরিচালনা করে তার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা রয়েছে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে:
عَنْ أَبِى سَعِيدٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ
আবু সাঈদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমানতদার, সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবীদের সাথে, সিদ্দীক্বীন ও শহীদগণের সাথে অবস্থান করবে। সুনানে তিরমিযী: ১২০৯
– আর ব্যবসা-বাণিজ্য শুধুই অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়। বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে ব্যবসা বাণিজ্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ভালো কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করা প্রসঙ্গে কুরআনুল কারীমে এরশাদ হয়েছে,
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى الخ
“তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে”। (সূরা মায়েদা-২)
– সুতরাং ব্যবসায়িক পণ্য যখন শারিয়াহ বান্ধব ও জনকল্যাণমূলক হবে তখন সুস্থ ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণে তা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। অনুরূপভাবে সামাজিক কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য না
-
প্রভিডেন্ট ফান্ড গাইডলাইন
৳ 2500 Add to cartপ্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত শারিয়াহ নির্দেশনা
প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচিতি:
সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীদের মাসিক বেতন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অথবা
কর্মীদের ইচ্ছায় প্রতি মাসে মূল বেতনের নির্দিষ্ট একটি অংশ কেটে রাখা হয়। এর সাথে
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কিছু কন্ট্রিবিউশন করা হয়। এ পুরো টাকার সমন্বিত তহবিলকে
প্রভিডেন্ট ফান্ড বলে যা ক্ষেত্রবিশেষ বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করা হয়। চাকরিজীবীগণ
চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রত্যেকের জমাকৃত অর্থ লভ্যাংশসহ একসাথে প্রদান করা
হয়। চাকরি থেকে অবসরের আগে এ ফান্ডের টাকা উত্তোলন করা যায় না। তবে সর্বোচ্চ ৮০%
পর্যন্ত ঋণ সুবিধা নেওয়া যায় যা ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য।
প্রচলিত প্রভিডেন্ট ফান্ড দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা:
১. বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ড:
২. ঐচ্ছিক প্রভিডেন্ট ফান্ড:
নিম্নে প্রভিডেন্ট ফান্ডের ধরনসমূহ ও এর শারিয়াহ বিধান উল্লেখ করা হলো:-১. বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ড:
সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীদের মূল বেতন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্দিষ্ট
পরিমাণ টাকা যে ফান্ডে কেটে রাখা হয়। এক্ষেত্রে চাকরিজীবীদের বেতনের অংশ কর্তন না করে
প্রতিমাসে তা প্রাপ্ত হওয়ার কোন অপশন/অধিকার থাকে না। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার
আগ পর্যন্ত তাতে চাকরিজীবীর হস্তক্ষেপের অধিকার বা সুযোগ দেওয়া হয় না।
– সরকারি চাকুরিজীবীদের ক্ষেত্রে সাধারণত সরকারের কেন্দ্রীয় বাজেট হতে চাকুরি থেকে
অবসর গ্রহণের পর সম্পূর্ণ অর্থ একসাথে প্রদান করা হয়। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় বাজেটই হচ্ছে
উক্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডের মূল উংস।
জীবদ্দশায় সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত শারিয়াহ নির্দেশিকা
পিতামাতার জীবদ্দশায় সন্তানদেরকে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেওয়ার বিষয়টি দুভাবে হতে পারে:-
১. সন্তানদেরকে সম্পত্তির অংশবিশেষ প্রদান করা।
২. জীবদ্দশায় সকল সম্পত্তি সম্ভাব্য ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া।
১ম ক্ষেত্রে অর্থাৎ পিতামাতা যদি সন্তানদেরকে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে কোনো কিছু প্রদান করতে চান তাহলে যেহেতু তা মৌলিকভাবে হিবা বা গিফট হিসেবে ধর্তব্য হয়, তাই মৃত্যু-পরবর্তী ফারায়েয নীতি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। এক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে সকলকে সাধারণভাবে সমানভাবে দান করা কর্তব্য।
- শারিয়াহসম্মত কোনো কারণ ছাড়া সন্তানদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কমবেশি করা ঠিক নয়। সুতরাং পিতা নিজ জীবদ্দশায় ছেলে-মেয়েদের কিছু সম্পদ দিতে চাইলে সন্তানদের মাঝে সমতা বজায় রেখে দান করা উত্তম। বরং পিতার প্রতি অন্যায় বা জুলুমের অপবাদের আশঙ্কা থাকলে সকলের মাঝে সমানভাবেই সম্পদ বন্টন করাই উচিত। এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ স. এর নিম্নবর্ণিত হাদিসটি উল্লেখযোগ্য:-
– হযরত নু‘মান ইবনে বশীর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা (একবার) আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন; হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সাক্ষী থাকুন; আমি নু‘মানকে আমার এই এই সম্পদটি (গোলাম কিংবা বাগান) দিয়ে দিয়েছি। তখন নবীজী বললেন: নুমানকে যেরূপ দিয়েছো, তোমার অন্যান্য সন্তানকেও কি সেরূপ দিয়েছো? তিনি বললেন: না। নবীজী বললেন: তাহলে তুমি এ বিষয়ে আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে সাক্ষী রাখো। অতপর বললেন, তুমি কি চাও না! -তোমার সকল সন্তান সমানভাবে তোমার সাথে সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন: অবশ্যই। তখন নবীজী বললেন: তাহলে (শুধু নু‘মানকে অতিরিক্ত এত এত সম্পদ) দিয়ে দিও না।





Reviews
There are no reviews yet.