Related products
-
জীবদ্দশায় সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত শারিয়াহ নির্দেশিকা
৳ 2500 Add to cartজীবদ্দশায় সম্পত্তি বণ্টন সংক্রান্ত শারিয়াহ নির্দেশিকা
পিতামাতার জীবদ্দশায় সন্তানদেরকে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেওয়ার বিষয়টি দুভাবে হতে পারে:-
১. সন্তানদেরকে সম্পত্তির অংশবিশেষ প্রদান করা।
২. জীবদ্দশায় সকল সম্পত্তি সম্ভাব্য ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া।
১ম ক্ষেত্রে অর্থাৎ পিতামাতা যদি সন্তানদেরকে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে কোনো কিছু প্রদান করতে চান তাহলে যেহেতু তা মৌলিকভাবে হিবা বা গিফট হিসেবে ধর্তব্য হয়, তাই মৃত্যু-পরবর্তী ফারায়েয নীতি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। এক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে সকলকে সাধারণভাবে সমানভাবে দান করা কর্তব্য।
- শারিয়াহসম্মত কোনো কারণ ছাড়া সন্তানদের মাঝে উল্লেখযোগ্য কমবেশি করা ঠিক নয়। সুতরাং পিতা নিজ জীবদ্দশায় ছেলে-মেয়েদের কিছু সম্পদ দিতে চাইলে সন্তানদের মাঝে সমতা বজায় রেখে দান করা উত্তম। বরং পিতার প্রতি অন্যায় বা জুলুমের অপবাদের আশঙ্কা থাকলে সকলের মাঝে সমানভাবেই সম্পদ বন্টন করাই উচিত। এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ স. এর নিম্নবর্ণিত হাদিসটি উল্লেখযোগ্য:-
– হযরত নু‘মান ইবনে বশীর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পিতা (একবার) আমাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে গেলেন এবং বললেন; হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সাক্ষী থাকুন; আমি নু‘মানকে আমার এই এই সম্পদটি (গোলাম কিংবা বাগান) দিয়ে দিয়েছি। তখন নবীজী বললেন: নুমানকে যেরূপ দিয়েছো, তোমার অন্যান্য সন্তানকেও কি সেরূপ দিয়েছো? তিনি বললেন: না। নবীজী বললেন: তাহলে তুমি এ বিষয়ে আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে সাক্ষী রাখো। অতপর বললেন, তুমি কি চাও না! -তোমার সকল সন্তান সমানভাবে তোমার সাথে সদ্ব্যবহার করুক? তিনি বললেন: অবশ্যই। তখন নবীজী বললেন: তাহলে (শুধু নু‘মানকে অতিরিক্ত এত এত সম্পদ) দিয়ে দিও না।
-
মার্কেটিং শারিয়াহ গাইডলাইন
৳ 1500 Add to cartছবি, ভিডিও ও টেক্সট কন্টেন্ট মার্কেটিং বিষয়ক শারিয়াহ গাইডলাইন
১. ছবি সংক্রান্ত শারিয়াহ বিধান
১. পরিভাষা পরিচিতি
১.১ ‘সাধারণ ছবি’- বলতে বোঝানো হয়:- স্পর্শযোগ্য কোন মাধ্যমে কোন বস্তু, প্রাণী বা মানুষ সদৃশ স্থায়ী প্রতিকৃতি সৃষ্টি করা যা মূল মাধ্যম থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় পৃথক হয় না। যেমনঃ কাগজ, টাইলস, মগ, দেয়াল ইত্যাদিতে আঁকা-প্রিন্ট করা।
১.২ ‘ডিজিটাল ছবি’ হচ্ছে:- এক ধরনের ইলেকট্রিক প্রতিফলিত রশ্মির সমষ্টি। ইলেকট্রিক সিগন্যাল ও ডিসপ্লে এর মাধ্যমে তা দৃশ্যমান হয়। সাধারণত একটি বাইনারি সিস্টেমে তা সংরক্ষণ করা হয়। এটা কয়েক ধরনের হয়। যেমন, রাস্টার ইমেজ বা বিটম্যাপ ইমেজ।
২. শারিয়াহ পর্যালোচনা
২.১ প্রাণীর সাধারণ ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ও ত্রিমাত্রিক ছবি অংকন করার বৈধতা ইসলামে নেই। বহুসংখ্যক হাদীসের আলোকে এসব ছবি হারাম, নাজায়েয। হাদিসে ছবি অঙ্কনকারীর জন্য ভয়াবহ আযাবের কথা এসেছে। রাসূল সা. বলেছেন:-
“إن أشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون”
অর্থাৎ, কেয়ামতের দিন সবচেয়ে ভয়াবহ আযাবের সম্মুখীন হবে ছবি অঙ্কনকারীরা। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২১০৯)
২.২ বিশেষ প্রয়োজনে যেমন আইডি কার্ড, পাসপোর্ট ইত্যাদির প্রয়োজনে ছবি তোলা ও সংরক্ষণ করা নাজায়েয নয়।
২.৩ নিষ্প্রাণ ও জড়বস্তুর সাধারণ ছবি, ভাস্কর্য সন্দেহাতীতভাবে জায়েজ। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য শোপিস হিসেবে তা দেয়াল, আলমারি ইত্যাদিতে সংরক্ষণ করাও জায়েয।
২.৪ প্রাণীর ডিজিটাল ছবি হার্ডডিস্ক বা মেমরিতে থাকা পর্যন্ত তথা প্রিন্ট করার আগ পর্যন্ত এইসব ছবির ব্যাপারে ওলামাদের মধ্যে দুইটি মতামত রয়েছে।
-
ব্যাংকে বিভিন্ন একাউন্ট খোলার শারিয়াহ গাইডলাইন
৳ 1000 Add to cartকনভেনশনাল ব্যাংকে সেভিংস/এফডিআর/এসএনডি/ কারেন্ট একাউন্ট খোলার বিধান
১. সেভিংস/এফডিআর/এসএনডি/কারেন্ট একাউন্টের শারিয়াহ অভিযোজন (Shariyah Classification):-
এ ব্যাপারে প্রায় সকল আন্তর্জাতিক ফিকহ-ফোরামের বক্তব্য অভিন্ন যে, কনভেনশনাল ব্যাংকে কারেন্ট, সেভিংস, এসএনডি বা এফডিআর একাউন্ট খোলার মাধ্যমে মূলত ব্যাংকের সাথে ঋণের চুক্তি করা হয়। অর্থাৎ শারিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গ্রাহকের পক্ষ থেকে ব্যাংককে ঋণ প্রদান করা।
২. সেভিংস/এফডিআর/এসএনডি একাউন্টের শারিয়াহ বিধানঃ-
উপরের বিবরণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, কনভেনশনাল ব্যাংকে সেভিংস, এফডিআর বা এসএনডি একাউন্ট খোলার মাধ্যমে মূলত ব্যাংকের সাথে ঋণের চুক্তি করা হয়। আর ঋণের বিপরীতে শর্ত করে কোন ধরনের উপকার গ্রহণ স্পষ্ট রিবা/সুদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কনভেনশনাল ব্যাংকে সেভিংস/এফডিআর/এসএনডি একাউন্ট খোলা কোনভাবেই বৈধ নয়। উল্লিখিত একাউন্ট থেকে প্রাপ্ত সুদ হারাম থেকে নিষ্কৃতির নিয়তে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সাদাকাহ করে দিতে হবে।
-
ক্যাশ ওয়াকফ এর মাধ্যমে ফান্ড পরিচালনা করার জন্য শারিয়াহ নীতিমালা
৳ 3000 Add to cartক্যাশ ওয়াকফ এর মাধ্যমে ফান্ড পরিচালনা করার জন্য শারিয়াহ নীতিমালা
بسم الله الرحمن الرحيم
১. ওয়াকফ ফান্ডের মৌলিক কাঠামো
যেকোনো ধরনের অনুদানভিত্তিক দাতব্য ফান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে দু ধরনের মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে। একটি হচ্ছে তাবাররু মডেল আর অপরটি হচ্ছে ওয়াকফ মডেল। বিশ্বের বহু উলামায়ে কেরামের মতে এ ধরনের ফান্ড ওয়াকফভিত্তিক গঠন করা বাঞ্ছনীয়। নিম্নে ওয়াকফ ফান্ড এর মৌলিক কাঠামো নিম্নে তুলে ধরা হলো:-
- ওয়াকফ ফান্ডের স্বতন্ত্র আইনি সত্ত্বা থাকবে যার মাধ্যমে এটি মালিকানা লাভের অধিকারী হবে। সদস্যদের কেউ উক্ত ফান্ডের মালিক থাকবে না।
- ওয়াকফ ফান্ডে প্রাথমিক অবস্থায় যেগুলো ওয়াকফ করা হবে সেগুলো ওয়াকফ হিসেবেই গণ্য হবে এবং সাধারণ ফান্ডের ন্যায় এটাকে সরাসরি খরচ করে ফেলা যাবে না বরং উক্ত ফান্ডকে শারিয়াহসম্মতভাবে বিনিয়োগ করতে হবে। অতপর উক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা হতে খরচ করতে হবে এবং সর্বাবস্থায় ওয়াকফকৃত অর্থ বহাল রাখতে হবে।
- প্রত্যেক সদস্য ফান্ডের পলিসি অনুযায়ী প্রতি মাসে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ফান্ডে জমা করবেন যা ওয়াকফ ফান্ডের আয় হিসেবে গণ্য হবে।
- ওয়াকফকারীদের শর্তানুযায়ী ওয়াকফ থেকে প্রাপ্ত আয় নিজেদের মধ্যেই খরচ করা হবে। সাথে সাথে পরবর্তীতে যে অর্থ উক্ত ফান্ডে জমা করা হবে সেগুলোরও মালিক হবে উক্ত ওয়াকফ ফান্ড। এবং সেখান থেকেও তাদের নির্ধারিত খাতে খরচ করা হবে।
-
- যেহেতু ওয়াকফ ফান্ডের মূল টাকা থেকে সরাসরি কাউকে সহযোগিতা করা যাবে না বরং সেটাকে বিনিয়োগ করে প্রাপ্ত আয় থেকে খরচ করতে হবে তাই শুরু থেকেই উক্ত ফান্ডে সরাসরি ওয়াকফের অর্থ অল্প পরিমাণে রাখা হবে আর অবশিষ্ট অর্থ ওয়াকফের আয় হিসেবে রেখে দিতে হবে যাতে সুবিধা মোতাবেক সেটাকে সহজে কাজে লাগানো যায়।
- ওয়াকফ মূলত স্থায়ী হওয়াই কাম্য। অধিকাংম উলামায়ে কেরামের মতে ওয়াকফ অস্থায়ী হতে পারে না বরং চিরস্থায়ী হতে হয়। তাই সাময়িক ওয়াকফ না করে ব্যাপকভাবে ওয়াকফ করাই অধিক উত্তম হবে। তবে কোন কোন স্কলারের মতে ওয়াকফ সাময়িক সময়ের জন্যও হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজনে সাময়িকভাবেও ওয়াকফ করা যেতে পারে। নিম্নে উক্ত ফান্ড পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা উল্লেখ করা হলো:-
২. ম্যানেজমেন্টের গঠন ও দায়িত্ব:
- বোর্ড অব ট্রাস্টিজ: একটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠন করতে হবে যা ওয়াকফ ফান্ড পরিচালনা করবে। এই বোর্ডে দক্ষ, বিশ্বস্ত এবং শরিয়াহ জ্ঞানসম্পন্ন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
- বোর্ডের দায়িত্ব: বোর্ডের দায়িত্ব হবে ওয়াকফ সম্পদের সুরক্ষা, বিনিয়োগের তদারকি, আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সম্পন্ন করা।
- প্রত্যেক সদস্য ফান্ডের পলিসি অনুযায়ী প্রতি মাসে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ ফান্ডে জমা করবেন যা ওয়াকফ ফান্ডের আয় হিসেবে গণ্য হবে।
সমবায় সমিতি পরিচালনা সংক্রান্ত মৌলিক শারিয়াহ গাইডলাইন
بسم الله الرحمن الرحيم
সমবায় সমিতি পরিচালনা সংক্রান্ত মৌলিক শারিয়াহ গাইডলাইন
ইসলামিক সমবায় সমিতির কাঠামো বলতে বোঝানো হয় এমন সমবায় কাঠামো যা শারিয়াহর নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং পরিচালন নীতিমালায় শারিয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক কোন ধারা থাকবে না। তাছাড়া (Compliance with Bangladeshi Laws) বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পরিচালনার স্বার্থে বাংলাদেশ সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (২০০২ সালের সংশোধিত) এবং বাংলাদেশ সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ -সংশোধিত-২০২০ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমিতি পরিচালিত হবে। তবে যেসব ধারা শারিয়াহ পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হবে সেগুলো পালন করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে এবং এক্ষেত্রে শারিয়াহ পরামর্শকদের সহযোগিতা নিতে হবে।
নিম্নে এ ধরনের একটি সু-সংগঠিত কাঠামো তুলে ধরা হলো:-
ইসলামিক সমবায় সমিতির কাঠামো
উক্ত কাঠামো যেসব বিষয়ের মাধ্যমে গঠিত হবে:
১. সমিতির নাম ও পরিচিতি
২. শারিয়াহ বোর্ডের তত্ত্বাবধান (Shariah Supervision)
৩. সদস্যপদ সংক্রান্ত নীতিমালা
৪. হালাল বিনিয়োগ (Halal Investment) সংক্রান্ত নীতিমালা
৫. লাভ ও লোকসান সংক্রান্ত নীতিমালা
৬. সামাজিক দায়িত্ব ও যাকাত নীতি (Social Responsibility and Zakat Policy)
৭. তাকাফুল (Takaful) ব্যবস্থাপনা
৮. প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কর্মসূচি
৯. স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা (Transparency and Accountability)
১০. অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ (Internal Control System) ও ব্যবস্থাপনা খরচ সংক্রান্ত নীতিমালা
১১. সংযুক্তি – ১: সমবায় সমিতি পরিচালনায় ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত কিছু হীলা যেগুলো প্রয়োগ করা হতে বেচে থাকা জরুরী
১. সমিতির নাম ও পরিচিতি:
- ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে এমন নাম সমিতির জন্য নির্বাচন করার বাঞ্ছনীয়। তবে শালীন, অর্থবহ, কল্যাণের ইঙ্গিতবাহী যেকোনো ভালো ও সুন্দর নাম রাখা যেতে পারে।
- সমিতির লক্ষ্য হবে পারস্পরিক সহযোগিতা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচন। ইসলাম ও নৈতিকতার মানদণ্ডে সমিতির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সমাজকে সুদ, জুয়া ইত্যাদি সব ধরনের আর্থিক জুলুম থেকে মুক্ত করে ন্যায় ও সাম্যের পথে ইতিবাচকভাবে অগ্রসর করবে।





Reviews
There are no reviews yet.