Related products
-
মার্কেটিং শারিয়াহ গাইডলাইন
৳ 1500 Add to cartছবি, ভিডিও ও টেক্সট কন্টেন্ট মার্কেটিং বিষয়ক শারিয়াহ গাইডলাইন
১. ছবি সংক্রান্ত শারিয়াহ বিধান
১. পরিভাষা পরিচিতি
১.১ ‘সাধারণ ছবি’- বলতে বোঝানো হয়:- স্পর্শযোগ্য কোন মাধ্যমে কোন বস্তু, প্রাণী বা মানুষ সদৃশ স্থায়ী প্রতিকৃতি সৃষ্টি করা যা মূল মাধ্যম থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় পৃথক হয় না। যেমনঃ কাগজ, টাইলস, মগ, দেয়াল ইত্যাদিতে আঁকা-প্রিন্ট করা।
১.২ ‘ডিজিটাল ছবি’ হচ্ছে:- এক ধরনের ইলেকট্রিক প্রতিফলিত রশ্মির সমষ্টি। ইলেকট্রিক সিগন্যাল ও ডিসপ্লে এর মাধ্যমে তা দৃশ্যমান হয়। সাধারণত একটি বাইনারি সিস্টেমে তা সংরক্ষণ করা হয়। এটা কয়েক ধরনের হয়। যেমন, রাস্টার ইমেজ বা বিটম্যাপ ইমেজ।
২. শারিয়াহ পর্যালোচনা
২.১ প্রাণীর সাধারণ ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য ও ত্রিমাত্রিক ছবি অংকন করার বৈধতা ইসলামে নেই। বহুসংখ্যক হাদীসের আলোকে এসব ছবি হারাম, নাজায়েয। হাদিসে ছবি অঙ্কনকারীর জন্য ভয়াবহ আযাবের কথা এসেছে। রাসূল সা. বলেছেন:-
“إن أشد الناس عذابا يوم القيامة المصورون”
অর্থাৎ, কেয়ামতের দিন সবচেয়ে ভয়াবহ আযাবের সম্মুখীন হবে ছবি অঙ্কনকারীরা। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং: ২১০৯)
২.২ বিশেষ প্রয়োজনে যেমন আইডি কার্ড, পাসপোর্ট ইত্যাদির প্রয়োজনে ছবি তোলা ও সংরক্ষণ করা নাজায়েয নয়।
২.৩ নিষ্প্রাণ ও জড়বস্তুর সাধারণ ছবি, ভাস্কর্য সন্দেহাতীতভাবে জায়েজ। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য শোপিস হিসেবে তা দেয়াল, আলমারি ইত্যাদিতে সংরক্ষণ করাও জায়েয।
২.৪ প্রাণীর ডিজিটাল ছবি হার্ডডিস্ক বা মেমরিতে থাকা পর্যন্ত তথা প্রিন্ট করার আগ পর্যন্ত এইসব ছবির ব্যাপারে ওলামাদের মধ্যে দুইটি মতামত রয়েছে।
-
ব্যাংকে বিভিন্ন একাউন্ট খোলার শারিয়াহ গাইডলাইন
৳ 1000 Add to cartকনভেনশনাল ব্যাংকে সেভিংস/এফডিআর/এসএনডি/ কারেন্ট একাউন্ট খোলার বিধান
১. সেভিংস/এফডিআর/এসএনডি/কারেন্ট একাউন্টের শারিয়াহ অভিযোজন (Shariyah Classification):-
এ ব্যাপারে প্রায় সকল আন্তর্জাতিক ফিকহ-ফোরামের বক্তব্য অভিন্ন যে, কনভেনশনাল ব্যাংকে কারেন্ট, সেভিংস, এসএনডি বা এফডিআর একাউন্ট খোলার মাধ্যমে মূলত ব্যাংকের সাথে ঋণের চুক্তি করা হয়। অর্থাৎ শারিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গ্রাহকের পক্ষ থেকে ব্যাংককে ঋণ প্রদান করা।
২. সেভিংস/এফডিআর/এসএনডি একাউন্টের শারিয়াহ বিধানঃ-
উপরের বিবরণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, কনভেনশনাল ব্যাংকে সেভিংস, এফডিআর বা এসএনডি একাউন্ট খোলার মাধ্যমে মূলত ব্যাংকের সাথে ঋণের চুক্তি করা হয়। আর ঋণের বিপরীতে শর্ত করে কোন ধরনের উপকার গ্রহণ স্পষ্ট রিবা/সুদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কনভেনশনাল ব্যাংকে সেভিংস/এফডিআর/এসএনডি একাউন্ট খোলা কোনভাবেই বৈধ নয়। উল্লিখিত একাউন্ট থেকে প্রাপ্ত সুদ হারাম থেকে নিষ্কৃতির নিয়তে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সাদাকাহ করে দিতে হবে।
-
গিফট গাইডলাইন
৳ 2500 Add to cartডাক্তারদের সাথে ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের লেনদেনের শারিয়াহ নীতি
বিভিন্ন মেডিসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ডাক্তারদেরকে সময়ে সময়ে বিভিন্ন উপহার-উপঢৌকন দেওয়া হয়ে থাকে। এসব উপহার সামগ্রী বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যথা:—
১. স্টেশনারি সামগ্রী:- যেমন, কলম, খাতা, প্যাড, স্ট্যাপলার, স্লিপবক্স ইত্যাদি। এ সকল পণ্যে কোম্পানির বা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ট্রেডমার্ক বা ট্রেডনেম ছাপানো থাকে। এগুলো প্রদানের উদ্দেশ্য হলো, কোম্পানির প্রচার-প্রসার। এগুলো যে টেবিলেই রাখা হোক তা বিজ্ঞাপনের কাজ দেয়। এমন উদ্দেশ্যে উপহার প্রদান ও গ্রহণ বৈধ। তবে যদি ডাক্তার জানেন, কোম্পানিটি আসলে ভেজাল; মানুষ প্রতারিত হবে, তাহলে উক্ত কোম্পানির প্রচারণা বন্ধ করতে তা গ্রহণ করা হতে বিরত থাকতে হবে।
২. ঔষধ সামগ্রী:- কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভগণ বিভিন্ন ওষুধের স্যাম্পল দিয়ে থাকেন। এগুলো প্রদানের উদ্দেশ্য হল, জেনেরিক নামের ঔষধগুলো নির্দিষ্ট কোম্পানি কোন নামে ব্র্যান্ডিং করছে তা ডাক্তারকে অবগত করা এবং এই ঔষুধগুলো যাচাই-বাছাই এর উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা। এমন উপহারের বিধান হল, কোম্পানি ভেজাল না হলে ওষুধ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে ডাক্তারদেরকে দেওয়ার জন্য যে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল রয়েছে, নির্ধারিত কোম্পানির ওষুধ বিক্রির বিনিময় বা উৎকোচ হিসাবে না হলে সেগুলো গ্রহণ করা ডাক্তারদের জন্য জায়েয। তবে ওইগুলো যেহেতু ফ্রি বিতরণ করে রোগীদের উপর প্রয়োগের মাধ্যমে ডাক্তারদের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য দেওয়া হয় এবং তা বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে, তাই ডাক্তারের জন্য ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি করা জায়েয হবে না। বরং ডাক্তার যে রোগীর জন্য তা সমীচীন মনে করবে তাকে ফ্রি প্রদান করবে। যদি কোনো কারণে বিক্রি করে দেওয়া হয় তাহলে তার মূল্য সাদাকাহ করে দেয়া বাঞ্ছনীয়।
৩. নগদ অর্থ ও মূল্যবান আসবাবপত্র ও মোবাইল রিচার্জ কার্ড ইত্যাদি প্রদান:- সাধারণত এসবের উদ্দেশ্য হয়, দাতা কোম্পানির ওষুধের নাম লিখার জন্য- এমন উপহার গ্রহণ অবৈধ। কারণ, শরীয়তের দৃষ্টিতে তা বিনিময়হীন উৎকোচের শামিল। ডাক্তারগণ রোগীর প্রকৃত অবস্থা বিবেচনায় এনে কোন কোম্পানির কী ওষুধের নাম লিখবেন তা তার পেশাগত দায়িত্বেরই অংশ বিশেষ। এ দায়িত্ব আদায় করে তিনি তৃতীয় পক্ষ থেকে কমিশন বা এ জাতীয় কিছু গ্রহণ করতে পারেন না। এ কাজের জন্য তো তিনি রোগী থেকেই ভিজিট নিচ্ছেন। সুতরাং এটি ‘আকলুল মাল বিল বাতিল’ (অন্যায় ভাবে অন্যের সম্পদ গ্রাস করা—যা সূরা বাকারা ১৮৮নং আয়াত দ্বারা নিষিদ্ধ)-এর অন্তর্ভুক্ত।
৪. স্কলারশিপ,সেমিনার,ওয়ার্কশপ ইত্যাদির আয়োজন:- সাধারণত বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি মার্কেটিং বা প্রমোশনাল উদ্দেশ্যে এই জাতীয় আয়োজন করে থাকে। এক্ষেত্রে কোম্পানির ব্র্যান্ডিং বা কোম্পানির সুনির্দিষ্ট কোন প্রোডাক্টের ব্র্যান্ডিং-ও কখনও করা হয়ে থাকে। এই জাতীয় আয়োজনে ওষুধ কোম্পানি ডাক্তারদের উপর প্রভাব বিস্তার করার বিষয়টিও একেবারে অগ্রাহ্য করা যায় না। এমনটি হয়ে থাকলে এটি শারিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে ঘুষের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
উপরে যা বলা হল, তা কেবল উদাহরণ হিসাবে বলা হয়েছে। এর বাহিরেও নানা ক্ষেত্রে, নানা মাধ্যমে হাদিয়ার নামে ঘুষের সূক্ষ্ম লেনদেন হতে পারে। কখনও এ দুয়ের মাঝে পার্থক্য করাও কষ্টকর হয়ে যায়। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত মাণদণ্ড অনুসরণ করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে কোনটি হাদিয়া, কোনটি ঘুষ-তা সহজে নির্ণয় করা যাবে।
-
মাদরাসার আর্থিক ব্যবস্থাপনা: নির্দেশিকা
৳ 3000 Add to cartমাদরাসার আর্থিক ব্যবস্থাপনা: নির্দেশিকা
-
ভূমিকা
১. কওমী মাদরাসা হল কুরআন ও হাদীসের শিক্ষাকেন্দ্র। ইসলামের মৌলিক নির্দেশনাসমূহ এতে পড়া ও পড়ানো হয়। এখান থেকেই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীগণ সমাজে আলেম হিসাবে পরিচিত হন। সুতরাং মাদরাসার প্রতিটি কাজ অনুসারে নিশ্চিত হওয়া জরুরী।
২. মাদরাসার ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত নানা বিষয় রয়েছে। যথা- শিক্ষক/কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম, শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম, মাদরাসার নানা ব্যয় সংক্রান্ত কার্যক্রম, আয় সংক্রান্ত কার্যক্রম, যাকাত ও অন্যান্য অনুদান সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম ইত্যাদি।
৩. মাদরাসার ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি কার্যক্রম শারিয়াহ সর্বোচ্চ মানদণ্ডে উর্ত্তীণ হওয়া জরুরী। বিশেষত আর্থিক আয়-ব্যয় কার্যক্রম, যাকাত গ্রহণ ও বিতরণে শারিয়াহ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, মাদরাসার হিসাব-নিকাশ বর্তমান হিসাববিদ্যা (accounting) অনুসারে প্রস্তুত হওয়া, এবং সামগ্রিক হিসাব-নিকাশ শরিআহ রিভিউ ও অডিটিং এর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া একান্ত জরুরী।
৪. আলহামদুলিল্লাহ, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ মহোদয়গণ এসব বিষয়ে অবগত আছেন। শারিয়াহ ও স্বচ্ছতার নীতি অনুসারেই তাঁরা এসব কার্যক্রম আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। তবে এ কাজগুলো আরও কীভাবে সহজে করা যায়- এ লক্ষ্যে আইএফএ কনসালটেন্সির শারিয়াহ টিম একটি সহজবোধ্য শারিয়াহ নির্দেশিকা (খসড়া) প্রণয়ন করেছে।
৫. উক্ত শারিয়াহ নির্দেশিকার লক্ষ্য, মাদরাসার যাবতীয় আর্থিক কার্যক্রম আরও অধিক শারিয়াহ ও স্বচ্ছতার মানদণ্ডে সহজে পরিচালিত করা।
-
শারিয়াহ নির্দেশিকা পরিধি
-
-
- বক্ষ্যমাণ শারিয়াহ নির্দেশিকার অধীনে যা আলোচনা হবে-
- (১)উস্তায ও অন্যান্য স্টাফ সংক্রান্ত নির্দেশিকা (২)যাকাত ও ওয়াজিব দান সংগ্রহ ও বিতরণ পদ্ধতি, (৩)মাদরাসার ব্যাংক একাউন্ট, (৪)সাধারণ দান/চাঁদা সংগ্রহ ও বিতরণ পদ্ধতি, (৫)কুরবানির চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবহার নীতি, (৬)মাদ্রাসার আয় বৃদ্ধি নীতি (৭)শিক্ষার্থীদের সাথে আর্থিক কার্যক্রম নীতি, (৮)শিক্ষক/স্টাফদের সাথে আর্থিক কার্যক্রম নীতি, (৯) আর্থিক বিষয়ে শারিয়াহ লঙ্ঘন বিষয়ক বিভিন্ন উদাহরণ (১০) শরিআহ একাউন্টিং ও অডিটিং নীতি।
- মাদরাসা পরিচালনা, প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষাদান কার্যক্রম নিয়ে এতে কোনও আলোচনা করা হবে না।
-
-
উস্তায ও অন্যান্য স্টাফ সংক্রান্ত শরিআহ নির্দেশিকা
মাদরাসার উস্তায ও অন্যান্য স্টাফ নিয়োগ কার্যক্রমটি সাধারণত ‘ইজারা’ চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। এ হিসাবে তাঁরা ‘আজীরে খাস’ (أجير خاص/) হিসাবে বিবেচিত। বিশেষত মাদরাসার উস্তাযগণের সাথে কৃত চুক্তি ‘বাৎসরিক নিয়োগ চুক্তি’ () হিসাবে স্বীকৃত।
-
শারিয়াহর আলোকে অনুদান সংগ্রহ ও বণ্টন বিষয়ক নীতিমালা
ভূমিকা:
যেকোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করার অর্থ হচ্ছে- জনসাধারণের পক্ষ হতে প্রদত্ত বিভিন্ন দান-অনুদান, যাকাত/সাদাকাহ ইত্যাদি গ্রহণ করা ও যথাখাতে বণ্টনের দায়িত্ব গ্রহণ করা। এটা অত্যন্ত গুরুদায়িত্ব এবং শারিয়াহর দৃষ্টিকোণ থেকে আমানত পালনের অন্তর্ভুক্ত।
উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে দান বা সাদাকাহ না পৌঁছানো পর্যন্ত তা আদায় হবে না। তাই যথাযথ খাতে ব্যয় করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। কোন ধরনের খেয়ানত যেন না হয় সেক্ষেত্রে পূর্ণ সতর্ক থাকতে হবে। নতুবা দুনিয়া ও আখিরাতে লাঞ্ছনা ও অপমানের সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়াও পরকালে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে জবাবদিহিতার বিষয় তো রয়েছেই। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمْنَتِ إِلَى أَهْلِهَا.
নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের এ আদেশ করছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার পাওনাদারদের পৌঁছে দাও।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও সাল্লাম বলেছেন:
أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ،
জেনে রেখো! তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্তদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
– গ্রহীতা সংস্থার উপর দায়িত্ব হচ্ছে, উক্ত দান, সাদাকাহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং যতদ্রুতসম্ভব উপযুক্ত হকদারের কাছে পৌঁছে দেওয়া।





Reviews
There are no reviews yet.