প্রকাশনা

রাষ্ট্রীয় বাজেট — ২০২৬-২৭ অর্থবছর জনবান্ধব বাজেট ও ইসলামী অর্থনীতি: সমস্যা, প্রচলিত সমাধানের সীমাবদ্ধতা ও বিকল্প প্রস্তাবনা

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম, সিএসএএ, অ্যাওফি, বাহরাইন১৮ জুন ২০২৬
রাষ্ট্রীয় বাজেট — ২০২৬-২৭ অর্থবছর জনবান্ধব বাজেট ও ইসলামী অর্থনীতি: সমস্যা, প্রচলিত সমাধানের সীমাবদ্ধতা ও বিকল্প প্রস্তাবনা

বাংলাদেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত কাঠামোগত সংকটের মুখোমুখি — দুর্বল রাজস্ব কাঠামো, সুদী ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ খেলাপি ঋণ। তিনটি সংখ্যাই এই দুষ্টচক্রের মূল চিত্রটি বলে দেয় — কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭.৪%, প্রতি ১০০ টাকা রাজস্বে ৫৫ টাকার ঋণ পরিশোধের চাপ এবং মোট ঋণের ৩৯% খেলাপি। প্রতি বছর যে সমাধান আসছে তা পরিচিত — নতুন কর আরোপ, নতুন ঋণ গ্রহণ, বাজেটের আকার বড় করা। কিন্তু এই পথে শিকড়ের চিকিৎসা হয় না। যে রাষ্ট্র বিদ্যমান কর আদায় করতে পারছে না, নতুন Wealth Tax বা Inheritance Tax সেই রাষ্ট্রকে টেকসই রাজস্ব দেবে না। সুদী ঋণের উপর দাঁড়িয়ে সুদী ঋণ কমানো যায় না। আর দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব না সরিয়ে ব্যাংকিং সংস্কার কাগজে-কলমেই থেকে যায়। এই গবেষণা-নোটে আমরা প্রচলিত আলোচনার বাইরে গিয়ে ইসলামী অর্থনীতির আলোকে তিনটি সংকটের বিপরীতে একটি বিকল্প রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছি।

রাজস্ব সংকটে: কর বাড়ানো নয় — প্রথমে রাষ্ট্রের আস্থা ফেরানো, তারপর বায়তুল মালের ধারণায় যাকাত, উশর, খারাজ ও ওয়াকফ সক্রিয় করা। আইএফএ কনসালটেন্সির প্রাক্কলনে শুধু যাকাত-উশর থেকেই বার্ষিক ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ সম্ভব — যা আসন্ন বাজেটের ১৪.২৩%। তবে এই সংখ্যা বাস্তবে রূপান্তরিত হতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, শরিয়াহ গভর্ন্যান্স এবং জনগণের আস্থা — তিনটি একসাথে গড়তে হবে। পাশাপাশি ওয়াকফ সম্পদ সক্রিয় করলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তরাধিকার সম্পদের ডিজিটাল বণ্টন কার্যকর হলে বার্ষিক ৯০ হাজার থেকে ১.৫ লাখ কোটি টাকার সম্পদ সক্রিয় অর্থনীতিতে প্রবেশ করবে — এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও নিশ্চিত হবে। কেন্দ্রীয় ওসিয়ত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বছরে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকার সামাজিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা সম্ভব। ১% প্রশাসনিক ফি ধার্য্য করা হলেও বছরে ৩৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুদী ঋণ সংকটে: আরও ঋণ নয় — এ্যাসেট বেকড সুকুক ইস্যু বৃদ্ধি করা। তবে বর্তমান সুকুকের দুর্বলতাও স্বীকার করতে হবে — SPV আলাদা নেই, রিটার্ন নির্ধারণে সুদহারের প্রভাব আছে, Secondary Market নেই। AAOIFI মানদণ্ড ৬২ নং অনুযায়ী প্রকৃত সম্পদভিত্তিক সুকুক চালু করলে, গণমুখী করলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ আনলে — সুদী ঋণের দুষ্টচক্র থেকে মাঝারি মেয়াদে বের হওয়া সম্ভব।

খেলাপি ঋণ সংকটে: শুধু ব্যাংক একীভূতকরণ নয় — কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও শরিয়াহ গভর্ন্যান্সের দ্বিস্তরীয় সংস্কার জরুরি। প্রসঙ্গত, পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকও যে সংকটে পড়েছিল তা প্রমাণ করে — সমস্যাটা সুদী কাঠামোতে নয়, সুশাসনের অনুপস্থিতিতে। ইচ্ছাকৃত খেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, শিল্পের জন্য স্বতন্ত্র ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং সম্পদভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে।

এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন হলে মধ্যমেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১২-১৫%-এ উন্নীত হওয়া, ঘাটতি-জিডিপি অনুপাত ৩-৪%-এ নামানো এবং Debt Service/Revenue অনুপাত ৫০-৬০%-এ নামিয়ে আনা সম্ভব।

সর্বোপরি এই গবেষণা-নোটের কেন্দ্রীয় বার্তা হলো: বাজেটের মানদণ্ড শুধু GDP প্রবৃদ্ধির সংখ্যা নয় — মাকাসিদ আল-শরিয়াহর পাঁচটি উদ্দেশ্য কতটা নিশ্চিত হলো, সেটিও সমান গুরুত্বে বিবেচনায় নিতে হবে।

 

 

রাষ্ট্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ ও ইসলামী অর্থনীতি বইয়ের প্রচ্ছদ

দুর্বল রাজস্ব কাঠামো, সুদী ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ খেলাপি ঋণ। তিনটি সংখ্যাই এই দুষ্টচক্রের মূল চিত্রটি বলে দেয় — কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭.৪%, প্রতি ১০০ টাকা রাজস্বে ৫৫ টাকার ঋণ পরিশোধের চাপ এবং মোট ঋণের ৩৯% খেলাপি।

পুরো গবেষণাটি পড়ুন

গবেষণাটি পড়তে ”ডাউনলোড করুন” বাটনে ক্লিক করুন

সম্পূর্ণ গবেষণাটি পড়ুন

পুরো গবেষণাগ্রন্থটি সংগ্রহ করে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও প্রস্তাবনা পড়ুন।

বইটি সংগ্রহ করুন

আরও প্রকাশনা

আইএফএ কনসালটেন্সি লিমিটেড | খ ২১৫/২, জেএস টাওয়ার, মেরুল বাড্ডা, ঢাকা ১২১২ | +880 1958 048899 | [email protected]

To get this "Shariah Tech Guideline" kindly give us your mail.