রিজিক বৃদ্ধির উপায়

 মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম

সিএসএএ, অ্যাওফি, বাহরাইন

গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা ও তাকওয়া অবলম্বন করা

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ বের করে দেবেন। তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।’ (সুরা তালাক : ২-৩)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই ব্যক্তি নিজ পাপের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ৪০২২)। তা ছাড়া গোনাহ ছাড়া ও তাকওয়া অবলম্বনের বিষয়টি এভাবেও বুঝে আসে, রিজিক আল্লাহর বিশেষ দান; যা গোনাহের সঙ্গে অর্জন হয় না। হলেও বরকত সেভাবে হবে না। অতএব, প্রকাশ্য ও গোপনে তাকওয়ার গুণ অর্জন করা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

আত্মীয়তার হক আদায় করা

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে চায় তার রিজিক বৃদ্ধি হোক অথবা তার মৃত্যু বিলম্বিত হোক, সে যেন আত্মীয়তার হক আদায় করে সম্পর্ক পোক্ত করে।’ (মুসলিম : ২৫৫৭)। হাদিসটিতে হায়াত বৃদ্ধি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, জীবনে বরকত হওয়া, অনেক বেশি আল্লাহর আনুগত্যের সুযোগ হওয়া, পরকালে কাজে আসে- এমন বিষয়ে সময়কে কাজে লাগানো ও সময় নষ্ট না করা। আর রিজিক বৃদ্ধি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রিজিক প্রশস্ত ও অধিক হওয়া। কেউ কেউ বলেছেন, ‘সম্পদে বরকত হওয়া।’ (শরহে নববি : ১৬/৩০১৪)।

একসঙ্গে বারবার হজ-ওমরা করা

সামর্থ্য থাকলে একসঙ্গে হজ-ওমরা করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা একের পর এক হজ-ওমরা করো। কেননা, কামারের হাপর যেমন লোহা, সোনা ও রুপার জং ও ময়লা দূর করে দেয়, তেমনি এ দুটি আমল দরিদ্রতা ও গোনাহকে মিটিয়ে দেয়। হজে মাবরুরের বিনিময় একমাত্র জান্নাত।’ (তিরমিজি : ৮১০)।

সদকা করা

এটি রিজিক বৃদ্ধির উত্তম মাধ্যম। এখানে সদকা বলতে ফরজ বা ওয়াজিব নয়, নফল সদকা উদ্দেশ্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছে রিজিক বাড়িয়ে দেন এবং সীমিত পরিমাণ দেন। তোমরা যা কিছু (শরিয়া অনুযায়ী) ব্যয় (দান-সদকা) করো, আল্লাহ এর উত্তম বদলা (দুনিয়া ও পরকালে) দিয়ে দেন। তিনি উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা : ৩৯)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সূর্যাস্তের সময় প্রতিদিন সূর্যের দুইপাশে দুইজন ঘোষক ফেরেশতা একটি দোয়া করেন, যা জিন ও মানুষ ছাড়া সব সৃষ্টিজগৎ শুনতে পায়। তা হলো, হে আল্লাহ! যে উদার হাতে দান করে, তাকে বাড়িয়ে দাও। আর যে হাত গুটিয়ে রাখে, তাকে হ্রাস করে দাও।’ (বোখারি : ১৪৪২)।

খুব বেশি ইস্তেগফার করা

নুহ (আ.) নৌকায় ওঠার সময় যাত্রীদের বলেছিলেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করো। আল্লাহ তোমাদের ধন বাড়িয়ে দেবেন।’ কোরআনে নুহ (আ.)-এর সেই কথাটি এভাবে এসেছে, ‘আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন। তোমাদের জন্য উদ্‌যান স্থাপন করবেন। তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : ১০-১৩)। বোঝা গেল, ইস্তেগফার বা গোনাহ মাফ চাওয়া রিজিক বৃদ্ধির বড় একটি মাধ্যম।

বেশি বেশি দোয়া করা

দোয়া সব কল্যাণের উৎস। তাই রিজিক বৃদ্ধির জন্য দোয়ার বিকল্প নেই। রাসুল (সা.) রিজিক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। যেমন- প্রতিদিন সকালে রাসুল (সা.) এভাবে দোয়া করতেন, ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী ইলম, উত্তম রিজিক ও গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।’ (মুসনাদে আহমদ : ৬/২৪৯)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *