মূল্যস্ফীতিতে ভালো নেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার

সা ক্ষা ৎ কা র

মূল্যস্ফীতিতে ভালো নেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে এখন ৬ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে। শহর ও গ্রামের চিত্র একই। বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে, পরিবহন খাতে ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এটি বর্তমানে সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। এতে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর দশা দিন দিন করুণ থেকে করুণতর হচ্ছে। অর্থনীতির চলমান পরিস্থিতি ও সংকট নিরসনে করণীয় বিষয়ে দেশের ইসলামি অর্থনীতিবিষয়ক অনন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএফএ কনসালটেন্সি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ ঢাকার ফতোয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম এবং আইএফএ কনসালটেন্সি লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অ্যাওফি বাহরাইনের মাস্টার ট্রেইনার মুফতি ইউসুফ সুলতান-এর সঙ্গে কথা বলেছেন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের সহ-সম্পাদক মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ

 

আলোকিত বাংলাদেশ : বর্তমান সময়ের অর্থনীতিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি তুমুল আলোচিত। একদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, অপরদিকে লাগামহীন বাজার দরে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের। এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : দ্রব্যমূল্য যে হারে ঊর্ধ্বগতির দিকে যাচ্ছে, বিষয়টি খুবই পীড়াদায়ক ও চিন্তার। বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি যেমন গণমাধ্যমে এসেছে, একইভাবে যখন পথেঘাটে হাঁটাচলা করি, তখন আমরাও দেখতে পাই। অর্থাৎ বলতে পারেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি বর্তমানে খুবই সুস্পষ্ট। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের মানুষ মাথা পিছু যে আয় করে, তার প্রায় অর্ধেকই চলে যায় খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে। অনেকের ক্ষেত্রে আরও বেশি হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপে উঠে এসেছে, দেশে মাথা পিছু গড় মাসিক আয় ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশই যায় খাদ্য কেনায়। দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মাসিক মোট আয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হয় খাদ্যের পেছনে। এ খাদ্যের বেশিরভাগই চাল। তারা আরও বলেছেন, দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চালের মাথাপিছু দৈনিক ভোগ ৪৭০ গ্রাম, যেখানে অন্যদের ক্ষেত্রে তা ৩৬৬ গ্রাম। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে প্রধান খাদ্যশস্যটির মূল্যস্ফীতির বোঝাও তাদের ঘাড়ে চাপে বেশি। তাহলে আরও যে মৌলিক প্রয়োজন রয়েছে, যেমন বাসাভাড়া দেওয়া, বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ বহন করা, বস্ত্র ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচাদি কোত্থেকে আসবে?

আমাদের দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে নতুন করে দেড় কোটি মানুষ দরিদ্র হয়েছে। এমনটি প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায় রাখতে না পারলে দরিদ্র মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। করোনা পরিস্থিতির পর আমরা যখন অর্থনৈতিক উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম, ঠিক এমন সময় দেশে বিভিন্ন দ্রব্যের মূল্য যে হারে বেড়ে চলেছে, তা সত্যিই পীড়াদায়ক। দরিদ্র মানুষের জীবন এতে আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি চলছে। গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হয়েছি। মাথাপিছু আয় আড়াই হাজার ডলারের অধিক। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটাই ভালোর দিকে। এমন বিভিন্ন গল্প আমরা মিডিয়াতে দেখতে পাই। এখন প্রশ্ন হলো, এই অর্থনৈতিক ভালো অবস্থা কাদের জন্য? এই উন্নয়ন ও অগ্রগতি কি শুধু খাতা-কলমের হিসাব, এ উন্নয়ন শুধু উচ্চবিত্তের নাকি সব শ্রেণির জন্য? বিষয়গুলো ভেবে দেখা দরকার।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, ‘খাতা-কলমে লেখা এ বিপুল উন্নয়ন ও অগ্রগতি শুধু উচ্চশ্রেণির লোকদের স্পর্শ করেছে। দেশের আমজনতা তাতে সেভাবে উপকৃত হয়নি বা বলতে পারেন, তাদের এ উন্নয়ন-অগ্রগতি কোনো কাজে আসেনি। বর্তমান মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস হওয়া এরই একটি বহিঃপ্রকাশ। গুটিকতক শ্রেণি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাচ্ছে, আর বৃহৎ জনগোষ্ঠী দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে। সম্পদ বণ্টনে এক ভয়ংকর বৈষম্য বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এর একটি ফলাফল। তাই এ থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের যথাযথ ভারসাম্য ও কল্যাণধর্মী অর্থনীতি বাস্তবায়নের চিন্তা করতে হবে। এর মাধ্যমে চলমান সংকটও নিরসন হবে।

আলোকিত বাংলাদেশ : সরকার বিভিন্ন মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অথচ খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে এতটাই চরম সংকট লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকারের পক্ষ থেকে অথবা যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ক্ষেত্রে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ব্যাপারটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

মুফতি ইউসুফ সুলতান : আসলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ নিয়ে আমরা আলোচনা-সমালোচনা খুবই কম দেখেছি। আমরা মিডিয়াগুলোতে লক্ষ্য করছি যে, মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া করে যাচ্ছে। স্বল্পমূল্যে তেল, চাল, পেঁয়াজ টিসিবির যে গাড়িতে বিক্রি করা হয়, সেখানে আগে নিম্ন পরিবারের লোকদের দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মানুষ দ্রব্যমূল্যের এত ঊর্ধ্বগতির কারণে খুবই হতাশ। আমাদের জাতীয় পর্যায়ে যারা দায়িত্বরত আছেন, সেখান থেকেই এ ব্যাপারে কথা বলা দরকার। এমন কোনো পরিবার পাবেন না, যারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে উদ্বিগ্ন নয়। অবশ্য যারা দুর্নীতি করে অর্থকড়ি অর্জন করেছে, তাদের এ নিয়ে কোনো হতাশা নেই। নেই তাদের কোনো চিন্তার কারণ। আমরা যদি বিষয়টি ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তাহলে লক্ষ্য করব, ইসলামি অর্থনীতির সঙ্গে অন্য দুটি অর্থনীতির মোটা দাগের পার্থক্য রয়েছে। পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে সম্পদ উপার্জন ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো স্তর নেই। এ ক্ষেত্রে এটা সম্পূর্ণ চাহিদা ও যোগানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। এখন যে যেভাবে পারে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে হলেও যোগানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

আর সোশ্যালিজমের দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখতে পাব, সেখানে সবকিছু সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে ইসলাম খোলা মার্কেটের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না। মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া বাজারের ক্ষেত্রে অনেকের হক নষ্ট হবে। এটা চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তবে যখন মূল্য নির্ধারণ চাহিদা ও জোগানের মাধ্যমে না হয়ে বিশেষ কিছু সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির মাধ্যমে সঠিক মূল্য পরিবর্তন করা হয়, সে ক্ষেত্রে শরিয়তের দিকনির্দেশনা রয়েছে। ইসলামি শাসনব্যবস্থায় সাহাবায়ে-কেরামের যুগে এর প্রয়োগ দেখতে পাই। সর্বোপরি এটা একটা জুলুম বটে। বিশেষত দেখবেন, রমজান উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের দ্রব্যমূল্য যেখানে কমিয়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা হয়, সেখানে আমাদের দেশে রমজানের দ্রব্যমূল্যের চিত্রটি ভিন্ন। এখানে তখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য প্রতিযোগিতা চলে। যা খুবই নিন্দনীয়।

আলোকিত বাংলাদেশ : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কী কী কারণ রয়েছে বলে মনে করেন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : বিভিন্ন তথ্য ও সংলাপের মাধ্যমে আমাদের কাছে যে বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে, তা হলো চলমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে, সিন্ডিকেট ও মজুদদারি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ভোজ্যতেলের সংকট নেই। এরপরও এর দাম হু হু করে বাড়ছে। এভাবে বাজারে পণ্য সংকট না হওয়া সত্ত্বেও দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত এটিই বেশি হয়ে থাকে আমাদের দেশে। এটি একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ করার এক ঘৃণিত মনোবাঞ্ছনা। যা একটি গভীর ষড়যন্ত্র।

আরেকটি কারণ হলো, অযাচিত অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগ। কৃষকরা যা চাষ করেন, তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে মাঝে ফড়িয়া, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের নানা মধ্যস্বত্বভোগ রয়েছে। এতগুলো হাত স্থানান্তর হওয়ার পর কৃষকের ফসল আমাদের হাতে এসে পৌঁছে। এক প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, কৃষিপণ্যের সরবরাহ চেইনে জড়িত সব পক্ষের মধ্যে কৃষক শ্রম ও সময় দেয় সবচেয়ে বেশি। যদিও এসব পণ্যের মুনাফায় ভাগ কৃষকেরই সবচেয়ে কম থাকে। প্রচলিত উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় মুনাফার সিংহভাগই পকেটস্থ হচ্ছে ফড়িয়া থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত নানা গবেষণায়ও উঠে এসেছে, ভোক্তাদের হাতে কৃষিপণ্য পৌঁছার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীদারদের (কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা) মোট মুনাফার ২০ শতাংশও কৃষক পান না। ৮০ শতাংশেরও বেশি মুনাফা চলে যায় ফড়িয়া, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পকেটে। বস্তুত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব মধ্যস্বত্বের অধিকাংশই অপ্রয়োজনীয় এবং অযাচিত।

আরও একটি কারণ রয়েছে, আমাদের দেশীয় ফসল উৎপাদিত পণ্যগুলো যখন গ্রাম থেকে শহরে আসে, তখন আসার পথে বিভিন্ন স্থানে যে পরিমাণ চাঁদা দিতে হয়, যা প্রায় গাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ হয়ে যায়। ফলে এ টাকাগুলো তোলার জন্য দ্রব্যমূল্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এর চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

সর্বশেষ আরেকটি কারণ, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণÑ আমাদের দেশে কোনো এক কারণে যে কোনো পণ্যের দাম বাস্তবিক অর্থেই বেড়ে গেলে, অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে সেটাকেই অজুহাত বানিয়ে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এটা তাদের একটা মানসিকতাই হয়ে গেছে। সব ক্ষেত্রেই তারা একই গল্প টেনে আনে। শুধু তা-ই নয়; পরবর্তীতে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে নির্ধারিত পণ্যটির দাম কমে যায়, তখনও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পণ্যটির দাম কমাতে আগ্রহবোধ করে না।

এগুলো হলো, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে বাহ্যিক কিছু কারণ। এ ছাড়া যদি আমরা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তাহলে এর সঙ্গে আরও কিছু কারণ লক্ষ্য করবÑ আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নৈতিকতা ও আল্লাহভীরুতার চর্চা খুবই কম। একজন ব্যবসায়ীর মধ্যে ধর্মীয় যেসব গুণ থাকা দরকার ছিল, সেগুলোর চর্চা তাদের মধ্যে নেই। আমি সব ব্যবসায়ীর কথা বলছি না। কিছু ব্যবসায়ী আছেন, মাশাআল্লাহ তারা খুব নীতিবান। কিন্তু এ সংখ্যাটি বেশি নয়। সততা, নৈতিকতা ও তাকওয়ার চর্চা না থাকলে নানা অজুহাতেই মানুষের হক ভূলুণ্ঠিত হবে। ব্যবসায়ী অঙ্গনে এটি এখন এক মহামারির আকার ধারণ করছে।

আলোকিত বাংলাদেশ : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হ্রাসের জন্য কেউ কেউ যথাযথভাবে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে পরামর্শ হিসেবে বলে থাকেন। এটিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

মুফতি ইউসুফ সুলতান : এতে কোনো সন্দেহ নেই, বাস্তবেই যদি পণ্য সংকট ও সরবরাহ সংকটের কারণে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তাহলে পণ্য উৎপাদন ও সঠিক সরবরাহের প্রতি জোর দিতে হবে। আমাদের শহরে পণ্যের যে চাহিদা রয়েছে, সে অনুযায়ী পণ্য বাজারজাত করতে হবে। এতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির যে ট্রেন্ড রয়েছে, তা কিছুটা কম হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণ এগুলো কম, বেশি হলো অসততা ও দুর্নীতি। আরও আছে পণ্য সাপ্লাই চেইনে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি।

কিছু ক্ষেত্রে পণ্য সংকটও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য দায়ী। সে ক্ষেত্রে আমি মনে করি, যেসব পণ্য অন্য দেশ থেকে আমদানি করা হয়, সেগুলোর জন্য দেশে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া উচিত। সরকারের দায়িত্ব, উৎপাদন করে দেওয়া নয়, বরং উৎপাদনের জন্য সহনশীল পরিবেশ তৈরি করা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দেশে উৎপাদন করতে হবে। সেটা না করে বরং আশপাশের অন্যান্য দেশ থেকে যদি আমদানি করি এবং দেশের পণ্যগুলো ঠিকমতো বাজারে আসতে না দিই, তাহলে আমরা প্রয়োজন ছাড়া নানা পণ্যে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ব। এমনটি হচ্ছে বর্তমানে।

আমাদের দেশে মাটি আছে, মানুষ আছে, ১৮ কোটি জনগণ রয়েছে। আমরা চাইলে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দেশেই উৎপাদন করতে সক্ষম। প্রয়োজন ছাড়া আমদানিনির্ভর দেশ হলে সমস্যা হলো, পণ্য কেনার জন্য আমাকে উদাহরণস্বরূপ রাশিয়া যেতে হবে। সেখান থেকে পণ্য কিনতে হবে। এরপর সে দেশে যদি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থাকে, সেটা আমার দেশে এসে হানা দেবে। আমাকে পেমেন্ট করতে হবে ফরেন কারেন্সির মাধ্যমে। আমি যখন ফরেন কারেন্সির মাধ্যমে পেমেন্ট করতে যাব, তখন সেখানে আন্তর্র্জাতিক বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হব। এটা বাস্তবিক হতে পারে, যেমনÑ একটা লোক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাইরের দেশ থেকে পণ্য আমদানি করছে, আমদানি করার ক্ষেত্রে তার লোকাল কারেন্সিতে মূল্য বেড়ে যেতে পারে। আবার আরেকটি হলো, যুদ্ধ চলাচলের কারণে হুজুগের ভিত্তিতে আমাদের কিছু ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই যে হুজুগের ভিত্তিতে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা মূলত আসল মূল্যের চেয়ে অনেকগুণ বেশি; তা একটি জুলুম। দুনিয়া ও আখেরাতে এর ফল খুবই ভয়ানক। তাই ব্যবসায়ীদের বলব, এসব অযাচিত কাজ থেকে বিরত থাকুন। আল্লাহকে ভয় করুন।

আলোকিত বাংলাদেশ : দেশের দায়িত্বশীলদের মুখে শোনা যায়, জনগণের বর্তমান ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, সুতরাং মূল্যের ঊর্ধ্বগতি কোনো বিষয় নয়। মানুষ কিনতে পারছে, কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আছে। এ বিষয়টি আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক ও অর্থনীতিবিদরা এ কথা সমর্থন করেন না। বিভিন্ন জরিপ ও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরে ২২ শতাংশ মানুষ রাত্রিযাপন করে এমন অবস্থায় যে, তাদের পরদিনের খাদ্যের কোনো নিশ্চয়তা নেই। আপনি কী আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করছেন না যে, টিসিবির গাড়ির পেছনে সর্বসাধারণের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। এটাই তো প্রমাণ করে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেই। কীভাবে বলা হচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে? যদি বৃদ্ধি পেয়েই থাকে, তাহলে সেই তথ্য আমাদের দেশের কত শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে? আমাদের শাসকরা কি বাজার ঘুরে তা নিরীক্ষণ করেছেন? তা ছাড়া মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেই যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে দিতে হবে, এমন কোনো কথা অর্থনীতিতে নেই। দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় বাস্তবিক চাহিদা ও জোগাননির্ভর হবে। এখানে কৃত্রিম কিছু করার সুযোগ নেই। কৃত্রিম বা ইচ্ছে করে কিছু করতে গেলেই সমস্যা তৈরি হবে। আমাদের বুঝে আসে না, কীভাবে এ ধরনের কাঁচা কথা বলা হয়, মানুষের যেহেতু আয় বেড়েছে, তাই দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এগুলো বলার অর্থ, অন্যদিক থেকে অসাধু দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের সমর্থন জানানো। সুতরাং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কোনো বিষয় নয়, এমন কথা বলা ঠিক না। বরং আমাদের দেখতে হবে, মানুষের আসল সমস্যা কোথায়? সেটি লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশের মানুষের আসল সমস্যা বুঝতে হবে। সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হলে করণীয় কী এবং দ্রব্যমূল্য যেন বৃদ্ধি না হয়, সে ক্ষেত্রে পদক্ষেপ কী? এসব ব্যাপারে ইসলামের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সেগুলো আমাদের অনুসরণ করা উচিত। এতে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

আলোকিত বাংলাদেশ : দ্রব্যমূল্য বাস্তবেই মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য কর্তৃপক্ষের কী করা উচিত বলে মনে কনে?

মুফতি ইউসুফ সুলতান : দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে, ব্যবসায়ীরা একে স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবতা যাচাই করতে, দেশের মানুষের আয় সক্ষমতা, ব্যয় সক্ষমতাবিষয়ক নানা নির্ভরযোগ্য জরিপ দেখতে পারেন। তবে বাস্তবতা হলো, এসব জরিপ অনেকাংশেই ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়। তাই সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ হবে, মানুষের মূল অবস্থা কী! তা জানতে সরাসরি বাজারে চলে যাওয়া। ওমর (রা.) তাঁর শাসনামলে বাজারে যেতেন। বাজার মনিটরিং করতেন। সেখান থেকে বাস্তব তথ্য তার কাছে চলে আসত। সুতরাং দায়িত্বশীলদের বলব, বাজারে আসুন। দেখুন, মানুষ কিনতে পারছে কিনা। টিসিবির গাড়ির পাশে একটু দাঁড়িয়ে দেখুন, মানুষ কিনতে পারছে কিনা? লাইনে কারা দাঁড়াচ্ছে? এটা হলো বর্তমানের বাস্তব চিত্র। একজন প্রকৃত দায়িত্বশীলের কর্তব্য হচ্ছে, মাঠপর্যায়ে বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করা। তবেই তিনি উপলব্ধি করতে পারবেন, মানুষের আসল অবস্থা কী! আমাদের পূর্বসূরিরা এমনটিই করেছেন। আজ দুঃখজনকভাবে যারা আমাদের নেতৃত্বের আসনে আছেন, তাদের মাঝে এই গুণটির বড় অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যদি আমরা বাস্তব অর্থেই দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসি, তাদের জন্য কাজ করতে চাই, তাহলে দেশের মানুষের কাছে যেতে হবে। তাদের কাছ থেকে শুনতে হবে তাদের কথা। তবেই বাস্তব চিত্র আমরা পাব। তখন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সহজ হবে। এখন ডিজিটালাইজেশনের সময়। মানুষের কথা শুনতে আমরা নানা সহজ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারি।

আলোকিত বাংলাদেশ : দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিকতা হ্রাসে আমাদের করণীয় কী হতে পারে বলে মনে করেন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : এ ক্ষেত্রে সংক্ষেপে যা বলব, তা হলোÑ ১. সঠিক বাজার নীতি প্রণয়ন করা : এটি এমন নীতি, যা ভোক্তাবান্ধব হবে; তবে ব্যবসায়ীবিরোধ নয়। আজকে মুক্তবাজার নীতির কথা বলে বস্তুত দুর্নীতি মানসিক ব্যবসায়ীদের দুর্নীতি করতে মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসাবান্ধব নীতি হচ্ছে, ভোক্তাবান্ধব নীতি হচ্ছে কম। ২. সরকারের নীতি দুর্বলতা দূর করা : বাজার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ভারসাম্য ও কঠোর নীতি প্রণয়ন করা। এর জন্য সবচেয়ে দরকারি নীতি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। যথাÑ ক. স্বতন্ত্র সার্বক্ষণিক মার্কেট মনিটরিং সেল গঠন দরকার। খ. প্রতিটি বাজারে ভোক্তা অভিযোগ বুথ গড়ে তোলা। গ. কৃষক থেকে সরাসরি বাজারে পণ্য সরবরাহ চেইন সহজ করে দেওয়া। ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে সরাসরি কৃষক টু ভোক্তা চেইন তৈরি করা। ৩. নৈতিক গুণ ও তাকওয়ার চর্চার উদ্যোগ নেওয়া : বাজারে বাজারে ইসলামের ব্যবসা ও বাজার নীতির আলোচনা ও চর্চার পরিবেশ তৈরি করা। প্রতি বাজারে ইসলামি নৈতিক বাজার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার ক্যাম্প গড়ে তোলা। এখানে সরকার-আলেম উভয়ের কাজ করা দরকার। আলেম-ওলামায়ে কেরামের দাওয়াহর এ ক্ষেত্রটি চরম অবহেলিত। মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্যে হালালমুখী করার দাওয়াহ নিয়ে কাজ প্রয়োজনের তুলনায় কম হচ্ছে। ৪. ভোক্তাবান্ধব সংগঠন বৃদ্ধি হওয়া : দেশে নামমাত্র কিছু ভোক্তাবান্ধব সংগঠন আছে, যারা ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন। এ ক্ষেত্রে তরুণদের এগিয়ে আসা উচিত। ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে নানা সংগঠন তৈরি হওয়া উচিত। ৫. কৃষি খাত উন্নয়ন করা : এখানে আমাদের আরও ফোকাস দেওয়া উচিত। কৃষক ও কৃষি গবেষণায় আরও মনোযোগ দেওয়া চাই। ৬. সামগ্রিক অর্থনীতি পরিবতন করা উচিত। সুদমুক্ত টেকসই ভারাসাম্য অর্থব্যবস্থা চালু করা দরকার। এতে শুধু দ্রব্যমূল্যের সমস্যাই নিরসন হবে না, অর্থনীতির অন্যান্য সমস্যাও নিরসন হবে, ইনশাআল্লাহ।

আলোকিত বাংলাদেশ : চাঁদাবাজি ও মধ্য স্বত্বভোগী সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? উত্তরণের পথ কী? এ দুটি বিষয়ের সঙ্গে জড়িতদের উদ্দেশে কী বলবেন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : দেখুন, চাঁদাবাজি সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। কারণ, চাঁদাবাজি যে অন্যায় কাজ, এটা সর্বসাধারণ সবাই জানে। আর ইসলাম সব ধরনের অন্যায় থেকে নিষেধ করেছে। চাঁদাবাজি করার অর্থ হলো, অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা। এ সম্পর্কে কোরআনে কারিমে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ কোরো না।’ (সুরা নিসা : ২৯)। কোরআনের একটি পরিভাষা হচ্ছে, আল আকলু বিল বাতিল। সমাজ নষ্টের পেছনে এই চাঁদাবাজির অন্যতম ভূমিকা রয়েছে। যখন কেউ কারও কাছ থেকে চাঁদাবাজি করল, তার থেকে বিভিন্ন ধরনের চাঁদা তুলল, তখন কিন্তু সেই লোক বাধ্য হয়েই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। জনগণকে ও সর্ব সাধারণকে যেটার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে।

আর অযাচিত মধ্যস্বত্ব ভোগী সম্পর্কে ইসলামই সর্বপ্রথম কথা বলেছে। এটি ইসলামের একটি সৌন্দর্যের দিক। অযাচিত মধ্যস্বত্ব ভোগী নিয়ে প্রচলিত অর্থনীতি পরে কথা বলেছে। একটি বিষয় দেখুন, একজন কৃষক কিন্তু সরাসরি বাজারে কিংবা শহরে কোনো মধ্যস্থতা ছাড়া তার পণ্য যা ফসলে উৎপাদন করেছে, নিয়ে আসতে পারে না। সে ক্ষেত্রে বাস্তবধর্মী মধ্যস্থতার মাধ্যমে কোনো পণ্য বাজারজাত করাটা ইসলাম অসমর্থিত কাজ নয়। এ ক্ষেত্রে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু মধ্যস্থতা ইসলাম নিষেধ করে না। কিন্তু কৃষকের বাজার থেকে বিরত রাখার জন্য মূল বাজারে আসতে না দেওয়া এবং তার উৎপাদিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অবৈধভাবে বিভিন্ন মধ্যস্থতার মাধ্যমে শহরে এনে মুনাফার ৮০ শতাংশ মধ্যস্থকারীদের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলা ইসলাম সমর্থন করে না। এমনটির মাধ্যমে একজন পরিশ্রমী কৃষকের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে। এগুলো থেকে উত্তরণের পথ হচ্ছে, কৃষকদের মূল বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেওয়া। অর্থাৎ কৃষকরা যেন সহজে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরাসরি বাজারে নিয়ে আসতে পারে, সে পদক্ষেপ নেওয়া। তাহলেই এসব সিন্ডিকেট, দুর্নীতিবাজদের থেকে আমরা মুক্তি পাব। সমাজের সাধারণ জনগণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো স্বল্পমূল্যে কিনতে পারবে।

আলোকিত বাংলাদেশ : দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ, মজুদদারি বা সিন্ডিকেট। রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এরা। এই সিন্ডিকেট বা মজুদদারি দেশে অনেক বড় কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি রোধ করার জন্য কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?

মুফতি ইউসুফ সুলতান : মজুদদারির ব্যাপারে রাসুল (সা.) নিরুৎসাহিত করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি খাবার মজুদদারি করে রাখে, আল্লাহ তার থেকে বরকত তুলে নেন। তার সম্পদের বরকত নষ্ট হয়ে যায়।’ এমন ব্যক্তির ব্যাপারে শাস্তি আরোপের কথা আছে। এসব মজুদদারির বিষয়ে জোরালো আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগ থাকা দরকার।

আলোকিত বাংলাদেশ : চলমান পরিস্থিতিতে সর্বশেষ কী পরামর্শ দেবেন?

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম : আমাদের ব্যবসায়ীদের বৃহৎ অংশই মুসলমান। তারা আমাদের দাওয়াতের বিশাল অংশ। আমাদের তরুণ আলেমদের বলব, ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে দাওয়াতি কার্যক্রম চালু করুন। প্রত্যেকটি বাজারে বাজারে দাওয়াহ ক্যাম্প করা আবশ্যক। বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলোতে এমনটি আছে। তরুণ আলেমদের বলব, আপনারা বাজার- সমিতির সঙ্গে আলোচনা করুন। তাদের ইসলামি দিকনির্দেশনা দিন। ব্যবসায়ীদের সদুপদেশ দেওয়ার মাধ্যমে এমনভাবে গড়ে তুলুন, তারা তাদের ব্যবসার মাধ্যমে উভয় জগতে উপকৃত হতে পারেন। একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, একমাত্র ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, একজন সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কেয়ামতের দিন নবী, শহিদ, সত্যবাদী ও নেককারদের সঙ্গে থাকবে। কাউকে যদি বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হবে, সে যেমনটি উৎফুল্ল হবে সংবাদটি শুনে, এর চেয়ে হাজার গুণ বেশি খুশির বিষয় হচ্ছে একজন ব্যবসায়ীর ব্যাপারে এসব কথা। এ বার্তাগুলো ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছানো উচিত। তাহলে আমরা একটি সুস্থ আলোকিত ব্যবসায়ী সমাজ দেখতে পাব। এতে নৈতিকতার জয় হবে। ব্যবসায়ীদের মাঝে উত্তম চরিত্রগুলো আগের চেয়ে অধিক সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।

শ্রুতলিখন : আবদুল কাদের আফিফ

ই-পেপার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *