Ethics in business

ব্যবসায় নীতি ও নৈতিকতা: সুন্নাহ থেকে

মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম

(সার্টিফাইড শরীয়াহ এ্যাডভাইজর এ্যান্ড অডিটর, এ্যাওফি, বাহরাইন)

শুরু কথা,
যেকোনও কাজে দুটি বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এক. নীতি। দুই. নৈতিকতা। নীতি হল, সার্বিক মৌলিক বিষয়। নৈতিকতা হল আচরণগত মৌলিক বিষয়। এখন নিয়ম-নীতির পাশাপাশি প্রায় সব ক্ষেত্রেই নৈতিকতা (Ethics) গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পেশাদারিত্বে নীতি ও নৈতিকতা বজায় রাখার প্রতি আহবান জানানো হয়। কিন্তু নীতি ও নৈতিকতার মাণদ- কী হবে? কার কাছ থেকে আমরা নীতি ও নৈতিকতা শিখবো? আমরা মুসলিম হয়েও নীতি ও নৈতিকতার দিক্ষা নিতে কি পাশ্চাত্যের অনুসরণের প্রয়োজন আছে? মোটেও নয়। ইসলাম ও ইসলামের নবী অতুলনীয়। প্রিয় নবী তাঁর বক্তব্য ও ব্যবহারের মাধ্যমে নীতি ও নৈতিকতার যে অতুলনীয় মাণদ- রেখে গিয়েছেন, সেটিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও শ্রেষ্ঠ মাণদ-। এর তুলনা হতে পারে না। জীবনের সব ক্ষেত্রেই তা বিদ্যমান। তবে আমরা এখানে কেবল ব্যবসায় ও ব্যবসায়ী ভাইদের জন্য রেখে যাওয়া প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নীতি ও নৈতিকতার দিকগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আল্লাহ কবুল করুন।

 

নীতি কী?
নীতি হল কোনও কিছু সুদৃঢ় বিধি ও বিশ্বাস। যা ব্যক্তিকে পরিচালিত করে। ইংরেজীতে একে Principle বলে। যার অর্থ করা হয়েছে-A strong belief that influnces your actions. (Oxford advanced learner’s dictionary)। আরবীতে বলা হয়-‘আছলুন’ (أصل), বহুবচন-উসূল (أصول)। এর মূল অর্থ করা হয়েছে-أساس الشيء ‘কোনও কিছুর মূল ভিত্তি’। যার উপর পরবর্তী বিষয় পরিচালিত হয়। (মাকায়িছুল লুগাহ) মূলত আমরা এখানে ব্যবসায়িক নীতি বলতে সার্বিক কিছু নীতি ও ভিত্তি বুঝিয়েছি। ইসলামের দৃষ্টিতে যা ব্যবসার জন্য মূল ভিত্তি ও নীতি হিসাবে কাজ করবে। যথাস্থানে তা উল্লেখ হবে ইনশাআল্লাহ।

 

নৈতিকতা কী?
নৈতিকতা বা ঊঃযরপং এর পরিচয় দেয়া হয়েছে এভাবে- Moral principle that control or influence a person’s behavior. (Oxford advanced learner’s dictionary)

অর্থাৎ বিশেষ কিছু নৈতিক নীতি, যা একজন মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রিত করে।
সহজ ভাষায়, এমন কিছু উত্তম গুণাবলী ও আচরণ, যা আপনার কাছ থেকে অন্য ব্যক্তি পাওয়ার অধিকার রাখে। এক কথায় যাকে আমরা ‘আখলাকে হাসানা’ বা উত্তম চরিত্র বলে থাকি।
কোন বিষয়টি নৈতিকাতর মাঝে অন্তর্ভুক্ত হবে, কোনটি হবে না-এ বিষয়ে ইসলামের চমৎকার নির্দেশনা রয়েছে। বিশেষত ব্যবসায় বাণিজ্যে, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা চর্চার মাণদ- কি হবে-এ নিয়ে সম্প্রতি এ্যাওফি (AAOIFI) একটি ‘নৈতিকতার মাণদন্ড’ প্রকাশ করেছে। যা Code of Ethics for Islamic Finance Professionals ‘ইসলামী ফিন্যান্সে পেশাদারদের জন্য নৈতিকতার মাণদ-’ নামে পরিচিত।

……………………………………………………………………………………………………………………

অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে-

أَتَدْرُونَ مَا الْـمُفْلِسُ؟”. قالوا: المفلس فينا من لا درهم له ولا متاع. فقال: “إِنَّ الْـمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ، وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هَذَا، وَقَذَفَ هَذَا، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا، وَضَرَبَ هَذَا، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ، ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ

‘তোমরা কি জানো, দরিদ্র কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মাঝে দরিদ্র তো সেই, যার কাছে পর্যাপ্ত টাকা-পয়সা নেই। আসবাব-সামগ্রী নেই। নবীজী বললেণ, আমার উম্মতের মাঝে সর্বাপেক্ষা দরিদ্র হবে সেই, যে কেয়ামতের দিন নামায, রোযা, যাকাত নিয়ে আসবে। কিন্তা সাথে সাথে তার এমন আমলও থাকবে, সে কাউকে গালি দিয়েছে। কার উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করেছে। কাউকে হত্যা করেছে। কাউকে মেরেছে। তার এসব অনৈতিক আচরণের বিনিময় তার পূর্ণ থেকে নেয়া হবে। এভাবে এক সময় তার পূর্ণকর্ম শেষ হয়ে যাবে। এরপর যাদের সাথে অনৈতিক আচরণ করেছে, তাদের গুনাহ তাকে দেয়া হবে। শেষ পর্যন্ত তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।-সহীহ মুসলিম।

বিস্তারিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *