বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিং অগ্রযাত্রা ও প্রত্যাশা

বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিং অগ্রযাত্রা ও প্রত্যাশা 

মুফতি যুবায়ের আব্দুল্লাহ

সার্টিফাইড শারিয়াহ এডভাইজারএন্ড অডিটর, এ্যাওফি বাহরাইন

 

প্রচলিত ধারার সুদ ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে সত্তরের দশক থেকে ইসলামী ব্যাংকিং এর যাত্রা শুরু হয় । ইসলামিক ফিনান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশ জুড়ে আছে ইসলামিক ব্যাংক । এর পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। 

 

মালয়েশিয়া ভিত্তিক ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের আন্তর্জাতিক মান নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠান IFSB (ISLAMIC FINANCIAL SERVICES BOARD) সম্প্রতি ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন ২০২১ প্রকাশ করেছে। এতে 2020 সাল পর্যন্ত ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম এর ভিত্তিতে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।  এর মাঝে ইসলামিক ব্যাংকিং সেক্টর নিয়েও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করেছে। IFSB এর রিপোর্ট এর আলোকে নিম্নে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো।

 

২০২০ সাল করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও মন্দা বিরাজমান ছিল। ইসলামিক ব্যাংকিং সেক্টরেও এ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ফলে 2020 সালের তৃতীয় কোয়ার্টারে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.৩% যা ২০১৯ এর তৃতীয় কোয়ার্টারে প্রবৃদ্ধির হার  ১২.৪% থেকে নিম্নমুখী । তবে প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হলেও সামগ্রিকভাবে ইন্ডাস্ট্রি গতবছরের তুলনায় এগিয়ে ছিল। যথাক্রমে ২০১৯ এ ছিল ১.৭৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যা 2020 এ এসে ১.৮৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়।

 

বিশ্বব্যাপী ইসলামিক ফিনান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে ইসলামিক ব্যাংকিং এসেট অন্যান্য প্রোডাক্ট এর তুলনায় মার্কেট শেয়ার সর্বোচ্চ ছিল। যথাক্রমে ইসলামী ব্যাংকিং এসেট ৬৮.৩% দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল সুকুক তার মার্কেট শেয়ার ২৫.৬% পরবর্তীতে আছে ইসলামিক ফান্ড এসেট ৫.৩% ও তাকাফুল ০.৯%।

অঞ্চলভেদে জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর ইসলামী ব্যাংকিং এসেডের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি ৯৭৯.৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার। দ্বিতীয় ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যার এসেডের পরিমাণ ২৫৮.২ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

 

রিপোর্ট অনুযায়ী ইরান ও সুদানে ব্যাংকিং সেক্টরের শতভাগ শেয়ার ইসলামী ব্যাংকগুলোর দখলে। এরপরে রয়েছে সৌদি আরব যাদের মার্কেট শেয়ার 70% পরবর্তীতে রয়েছে ব্রুনাই যাদের মার্কেট শেয়ার 60 শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ পাকিস্তান, জরদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চেয়ে এগিয়ে আছে। তার মোট মার্কেট শেয়ার ২৭.৫৪%।

 

তবে গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংকিং এসেটে বরাবরের মতো এবারও সৌদি আরবে এগিয়ে আছে। মোট ইসলামী ব্যাংকিং এসেটের ২৮.৫% তার দখলে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে আছে ইরান যার গ্লোবাল ইসলামিক মার্কেট এসেট ২২.১% তৃতীয় পর্যায়ে বেশ ব্যবধানে রয়েছে মালয়েশিয়া যার গ্লোবাল ইসলামিক মার্কেটের এসেট ১১.৪% এক্ষেত্রে পাকিস্তানের মার্কেটে এসেট ১.৩% বাংলাদেশ তার চেয়ে এগিয়ে মোট ২.৩% গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকিং এসেট দখল করে আছে।

 

বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংকিং সাইজ তৃতীয় কোয়ার্টার ২০২০ এ ১.৮৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার যা তৃতীয় কোয়ার্টার ২০১৯ এ ছিল ১.৭৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৮ তৃতীয় কোয়ার্টার এ ছিল ১.৫৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।  স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিং সাইজ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকিংয়ের এই অগ্রযাত্রা খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে এর পাশাপাশি শারিয়াহ বাস্তবায়ন ও পরিপালনে আরো অগ্রসর হতে হবে। ইসলামী ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি যত বৃদ্ধি পাচ্ছে এরই সাথে চ্যালেঞ্জও বাড়ছে । শারিয়ার যথাযথ বাস্তবায়ন না হলে ইসলামী ব্যাংকিং বিভিন্ন আপত্তি ও প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। এ জন্য এই ইন্ডাস্ট্রিতে ইসলামিক ফিন্যান্স বিষয়ক দক্ষ জনবল প্রয়োজন। আরো প্রয়োজন ইসলামী ব্যাংকিং ও শারিয়াহ  বিষয়ে গ্রাহকের সচেতনতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি করা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যেতে পারে পাশাপাশি প্রবন্ধ-নিবন্ধ বুকলেট প্রকাশ করা যেতে পারে। তবে ইসলামী ব্যাংকিং তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *