বাংলায় ওয়াকফের একাল সেকাল

‎-মাওলানা লুকমান হাসান (CSAA)

 

বাঙলার ওয়াকফ ব্যবস্থা

ইসলামের শুরু যুগ থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা মসজিদ কেন্দ্রিক চলে আসছে। মসজিদ থেকে আলাদা করে শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র মাদরাসাভবন নির্মাণের ধারা শুরু হয় হিজরী ৪র্থ শতাব্দিতে। বাংলাদেশেও যখন ইসলামের আলো পৌঁছে, তাও ছিলো মসজিদ কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে। 

বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা কবে সূচিত হয়, তা সুনির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও প্রতœতাত্তি¡ক কিছু ঐতিহাসিক প্রমাণ থেকে প্রতিয়মান হয় যে, তা ১ম হিজরী শতাব্দিতেই শুরু হয়েছিলো। বাংলাদেশ তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী অতিসম্প্রতি লালমনির হাট জেলায় একটি প্রাচীন মসজিদের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তাতে একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যাতে স্পষ্টাক্ষরে আরবীতে উতকীর্ণ আছে, “লাইলাহা ইল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, হিজরী ৬৯ (https://bit.ly/34hQ3J5)

বর্তমান রংপুরে প্রতœতাত্তি¡ক গবেষণায় হিজরী তৃতীয় শতকের শেষের দিকে নির্মিত একটি রিবা মসজিদ ও তৎসংলগ্ন ইমরারাতের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। গবেষকগণ অনুমান করছেন, সম্ভত এখানে বিরাট আকারে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিলো, যাতে অসংখ্য শিক্ষাথী লেখাপড়া করত। তাছাড়া, উপকূলীয় অ ল সমূহে আরব বণিকগণ নিজেদের  বসতি গড়ে তুলে ছিলেন, সে বসতিসমূহে তারা নিজেদের প্রয়োজনে মসজিদ গড়ে তুলে ছিলেন। সেসব মসজদিগুলোতে ব্যাপক হারে ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা হতো। ৪শত হিজরীর আগে বিখ্যাত পর্যটক ইবনে হাওকাল রহ. মসজিদ ভিত্তিক এই শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপকতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘যেকোনো  মসজিদে গেলেই ছাত্রদের শোরগোল শোনা যায় এবং দলে দলে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা পরিলক্ষিত হয়।’ (আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহয়া, হাদীস অধ্যয়নের মূলনীতি, পৃ. ৪৭৭)

মোগল আমলে ভারতবর্ষের প্রতিটি নগরে গঞ্জে হাজার হাজার মাদরাসা ছিলো। ১৯২২ সালে মিশর থেকে প্রকাশিতসুবহুল আশাগ্রন্থের বর্ণনানুসারে রাজধানী দিল্লিতেই এক হজার মাদরাসা ছিলো। প্রফেসর মার্কমিলসের বর্ণনানুসারে বৃটিশ শাসনের পূর্বে শুধু বাংলা দেশেই ছিলো ৮০ হাজার মাদরাসা। (আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহয়া, দেওবন্দ আন্দোলন: ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান, পৃ.১৫৮)

সোনারগায়ে উপমহাদেশের প্রথম হাদীসের পাঠশালা 

শাইখ শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা রাহ. নামের বিখ্যাত একজন হাদীস বিশারদ ও ফকীহ বাংলার সোনারগায়ে আগমন করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইয়ামেনের অধিবাসী। আনুমানিক ১২৭৭ ঈসায়ী সালে তিনি দিল্লীতে আগমন করেন। তখন ছিল গিয়াসউদ্দিন বলবনের আমল। বাদশা গিয়াসউদ্দিন বলবন তখন আবু তাওয়ামাকে অনুরোধ করে বাংলায় পাঠিয়ে দিলেন।

তিনি বাংলায় এসে সোনারগায়ে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহাসিকদের মতে এটাই হলো উপমহাদেশে ইলমে হাদীসের প্রথম দিককার শিক্ষাকেন্দ্র বা মাদরাসা। যার অবস্থান প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁ অন্তর্গত মোগড়াপাড়া গ্রামে। ধারণা করা হয়, তখন ঐ মাদরাসার ছাত্র সংখ্যা ছিল দশ হাজার। তারা সেখানে কুরআন শিখত, শিখত হাদীসে রাসূলের ইলম। আর তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন ঘটাতো।

তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর ইলমে দীনের খেদমত করার পর ১৩০০সালে সালে মৃত্যু বরণ করেন। যতদূর জানা যায় তাঁর মৃত্যুর পর ঐ মাদরাসার স্থায়িত্ব বেশি দিন ছিল না। একসময় তা পরিণত হয় মানুষের আবাসস্থলে।

ইতিহাস বিখ্যাত পর্যাটক, অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, শায়খ ইবনে বতুতা রাহ. তিনি ছিলেন মরক্কোর অধিবাসী। বাংলায় তিনি আগমন করেন ১৩৪৫ সালে। বাংলায় তখন ফখরুদ্দীন মোবারাক শাহের রাজত্ব ছিলো। ইবনে বতুতা তার বিখ্যাত গ্রন্থে এ মাদরাসাটির সম্পর্কে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। (আল হাসানী, আব্দুল হাই লখনৌবী, নুযহাতুল খাওয়াতির, . ১ পৃ. ১০২)

বাঙলার শিক্ষা ব্যবস্থা যেভাবে ধ্বংস করা হয়

ইংরেজরা বাংলার শাসনভার গ্রহণ করার পর লক্ষ্য করল যে, সমগ্র দেশের সিকিরভাগই রাষ্ট্র থেকে দানের খাতে (ওয়াকফের খাতে) চলে গেছে। তখন তারা মুসলমানদের ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রচেষ্টায় আত্মসাত করে। তাদের অন্যায় আত্মসাতের পরের চিত্র নিচের রিপোর্টটি থেকে কিছুটা স্পষ্ট হয়। স্যার ইউলিয়াম হান্টার লিখেছেন,

১৮২৮ সালে (বাযেয়াফতীর জন্য) শাসন বিভাগ ও ব্যবস্থা পরিষদ একযোগে একটা জোরালো পন্থা অবলম্বন করতে অগ্রসর হলো। এজন্য বিশেষ আদালত বসানো হলো। তারপর পুরো আঠারো বছর ধরে সারা প্রদেশটা সংবাদদাতা, মিথ্যুক সাক্ষী এবং নির্দয় ও কঠোর বাযেয়াফতি কর্মচারীতে ভরে  গেলো।

তার ফলে শত শত মুসলমান পরিবার ধ্বংস হয়ে যায় এবং তাদের শিক্ষা প্রণালি, যা এতদিন তাদের লাখেরাজ ওয়াকফের জমিজমার উপর নির্ভরশীল ছিলো, মারতœক আঘাত পেলো। মুসলমান আলিম সমাজ প্রাই আঠারো বছরের হয়রানির পর প্রাই একেবারে ধ্বংস হয়ে গেলো।

তিনি আরো বলেন, “বাযায়াফতিকরণের সময় থেকেই মুসলমান শিক্ষাপ্রণালীর অবসানও সূচিত হলো।এই সত্যটা স্বীকার না করার কোনো মানে হয় না যে, মুসলমানরা বিশ^াস করে, আমরা যদি এই উদ্দেশ্যে আমাদের উপর ভারার্পিত সম্পত্তিগুলোকে সাধুতার সংগে কাজে লাগাতাম, তাহলে এই সময়ে বাংলা দেশে মুসলমানরা সবচেয়ে মহৎ সবচেয়ে কার্যকরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকারী থাকতো।” (দি ইন্ডিয়ান মুসলমানস, উইলিয়াম হান্টার, অনুবাদ: আব্দুল মওদুদ, পৃ.১২২১২৪)

ওয়াকফ ব্যবস্থার ব্যাপকতার ফলে তৎকালীন ইউরোপের বহু দেশের চেয়ে বাংলা অ লের অর্থনৈতিক উন্নতি ছিলো সর্বোচ্চ। বাংলা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে বখতিয়ার খলজীর গৌড় জয়ের পরে ও দিল্লি সালতানাত আমলে অত্র অ লে ইসলাম ছড়িয়ে পরে। ইউরোপবাসীরা শাহী বাংলাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী বাণিজ্য দেশ হিসেবে গণ্য করতো।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী মুঘল আমলে বিশ্বের মোট উৎপাদনের (জিডিপির) ১২ শতাংশ উৎপন্ন হতো সুবাহ বাংলায়, যা সে সময় সমগ্র পশ্চিম ইউরোপের জিডিপির চেয়ে বেশি ছিল। (https://bit.ly/3GfN69f)

হুগলির ওয়াকফ

বাংলার বিখ্যাত আরেকটি ওয়াকফের তথ্য দেখুন। ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান ভারতের সৈয়দ পুর জেলার হুগলী শহরে হাজী মুহাম্মদ মহসিন মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাঁর বিশাল ভূসম্পত্তি ওয়াকফ করে যান। ইংরেজ সরকার ১৮১৬ সালে একটি অন্যায় অজুহাতে তা দখল করে নেয়। ১৮১৭ সালে সরকার তা ইজারা দিয়ে ইজাদারদের নিকট থেকে যে টাকা আদায় করেছিলো তা ছিলো ১৫ লক্ষ ৮৫ হাজার ৫ শত টাকা। তা ছাড়া বার্ষিক আদায় থেকেও প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জমা হয়ে ছিলো তাদের কাছে। 

উক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি সম্পর্কে ইউলিয়াম হান্টার তার বইয়ে লিখেছেন, ‘‘আমি পূর্বেই বলেছি, এই ওয়াকফ করা হয়েছলো ধর্মীয় কাজের জন্য। ওসীয়তনামায় (ওয়াকফ নামা) সব কাজের বিশদ বর্ণনা রয়েছে। যেমন, কতকগুলি ধর্মীয় অনুষ্ঠানউৎসব পালন করা, হুগলীর সুবৃহৎ মসজিদ বা ইমামবাড়ী মেরামত করা, একটি কবরগাহের রক্ষণাবেক্ষণ করা,  কতকগুলি মাসোহারা দেওয়া এবং বহুবিধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পালন করা। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ওসীয়তের কাজের তালিকায় পড়ে। কিন্তু সেটা হতে হবে মুসলমানদের ইচ্ছানুযায়ী এবং ঠিক যেমন খোদ ওয়াকফকারী  অনুমোদন করতেন। গরীব ছাত্রদের জন্য একটি মাদরাসা স্থাপন মুসলিমঅধ্যুষিত দেশসমূহে চিরকালই ধর্মীয় কাজ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।

মুসলমানরা যখন শুনলো যে, ইংরেজ সরকার এই বিরাট মূলধন একটা ইংরেজি কলেজ স্থাপনের উদ্দেশ্যে আত্মসাৎ করতে চলেছে, তখন তারা কিরূপ বিক্ষোভে ফেটে পড়লো তা আমরা সহজেই কল্পনা করতে পারি। অথচ কাজটি সরকার করেছে সমস্ত সম্পত্তিটা শুধুমাত্র ইসলাম অনুমোদিত ধর্মকাজের জন্য উদ্দিষ্ট হয়ে থাকলেও সরকার এমন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজে সেসব লাগাচ্ছে, যা ইসলামের শিক্ষার ঘোরতর পরিপন্থী এবং যেখান থেকে মুসলমানরা একেবারে বাদ  পড়ে গেছে। বর্তমানে কলেজটির অধ্যক্ষ হচ্ছেন একজন ইংরেজ ভদ্রলোক, যিনি এক বর্ণও ফারসী কিংবা আরবী জানেন না, অথচ তিনি প্রত্যেক মুসলমানের ঘৃণিত বিষয় সমূহে শিক্ষাদান করে একটি মুসলমান ওয়াকফ থেকে বাৎসরিক বিশ হাজার টাকা গ্রহণ করছেন।” (প্রাগুক্ত, পৃ. ১২৪; বাংলা পিডিয়া, . ২ পৃ.৯৬)

বর্তমান ওয়াকফের হালচাল

২০১৪ সালে ধর্ম মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিতে ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধিত থাকা সম্পত্তির মধ্যে ৮৫ হাজার ৫৭২ একর ভূমি বেহাত হওয়ার একটি হিসাব এক প্রতিবেদনে দাখিল করা হয়েছিল। কোনো জমি উদ্ধার হওয়ার খবর পরবর্তী সময়ে জানা যায়নি।

দেশে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির মোট পরিমাণ সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিভিন্ন বেসরকারি হিসাবে যত সংখ্যক ওয়াক্ফ এস্টেট ও ভূসম্পত্তির কথা জানা যায়, তার আনুমানিক একতৃতীয়াংশের কম সরকারি ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের অফিসে নিবন্ধিত আছে। হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, বর্তমানে নিবন্ধিত এস্টেট সারাদেশে ২১ হাজার ৯৩৯টি। এগুলোর অধীনে জমি আছে চার লাখ ২৪ হাজার ৫৭১ দশমিক ৭৪ একর। অন্যান্য সূত্র মনে করে, দেশে নয় লাখ একরের মতো ওয়াক্‌ফ জমি আছে।

বর্তমানে (২০১৭ এর তথ্য অনুযায়ী) ঢাকাসহ সারাদেশে ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের মোট জনবল ১১১ জন। ৬৪ জেলার মধ্যে অফিস আছে ৩৮ জেলায়। জনবল সংকট নিরসনে এক হাজার ৪৮ কর্মকর্তাকর্মচারীর একটি প্রস্তাব বেশ আগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ খাতের সম্পত্তি থেকে জনকল্যাণের কাজ সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনার জন্য ব্রিটিশ আমলে প্রথম ১৯৩৪ সালে বেঙ্গল ওয়াক্‌ফ অ্যাক্ট পাস হয়। পরে পাকিস্তান আমলে ১৯৬২ সালে এবং স্বাধীন বাংলাদেশে ২০১৩ সালে সংশোধিত আইন হয়। কিন্তু আইনের দুর্বলতা, সরকারি প্রশাসনের দুর্বলতাদুর্নীতি, দৃঢ় ব্যবস্থাপনার অভাব প্রভৃতির সুযোগে মূল ওয়াকিফ্‌ বা দাতার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশান হিসেবে ভুয়া নামে অথবা ওয়ারিশানদের প্রভাবিত করে টাউটবাটপাররা ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি কেনাবেচা বা দখল করছে বলে সূত্রগুলো জানায়। নিয়মিত আয়ও আত্মসাৎ হয়। (দৈনিক সমকাল, ৯ অক্টোবর ২০১৭)

এখান থেকে সহজে আমরা অনুমান করতে পারি, এক সময় ওয়াকফের ওসিলায় বাংলা ছিল বিশ্বের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থবিত্তের দিক থেকে উন্নত দেশ। কিন্তু বৃটিশদের চক্রান্তে তা অবহেলিত একটি ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছি। আফসোসের বিষয় হল, অবহেলার সেই ধারা আজও পর্যন্ত বর্তমান।  আর তারই ফলশ্রæতিতে ওয়াকফ সম্পত্তির নেই সঠিক কোন তথ্য, কোন নিয়ন্ত্রণ কিংবা পর্যবেক্ষণ।

প্রস্তাবনা

বাংলাদেশে ওয়াকফ একটি অবহেলিত সংস্থা। ¯্রফে ধর্মীয় একটি দাতব্য সংস্থার বেশি কিছু গণ্য করা হয় না। অথচ এটি সর্বজনীন শিক্ষা ও শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সম্ভাবনাময় স্বতঃসিদ্ধ মাধ্যম। এ বিষয়ে অন্যান্য অনেক মুসলিম দেশের মতো আমাদের দেশেও আলাদা মন্ত্রণালয় থাকা প্রয়োজন। যাদের উদ্যোগে গবেষণা হবে এবং তারা তা বাস্তবায়নের সঠিক রূপরেখা দিবে। এবং দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উক্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ওয়াকফ শুধু মসজিদ কিংবা নিতান্ত ধর্মীয় শিক্ষার জন্যই কল্যাণকর, এ ভুল ধারণা দূর করতে হবে। ওয়াকফের মাধ্যমে ইসলামের অনুমোদিত সকল বিষয়ের মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেমন, কৃষ্ িমাদরাসা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কারিগরি মাদরাসা প্রভৃতি। 

ওয়াকফের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাগুলোর ওয়াকফভিত্তিক স্কলারশিপ ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থের কারণে যেনো কোনো নাগরিক প্রাথমিক শিক্ষা কিংবা কোনো মেধাবী উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্ছিত না হয়।

ওয়াকফের বিষয়ে উন্নত দেশগুলোর ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানে শরীয়াহ সুপাইভাইজরি বডি রয়েছে। যেহেতু ওয়াকফ একটি শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যবস্থা, তাই এর শরীয়াহ নিশ্চিত করা ও ওয়াকিফ তথা দাতার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বাংলাদেশেও ওয়াকফ পরিচালনায় শরীয়াহ বডি রাখার তাৎপর্য রয়েছে।

২০০৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস এর এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বাংলাদেশে ১৩লাখ আশ্রয়হীন পথশিশু রয়েছে। ওয়াকফ ভিত্তিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের আবাসন ও শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। এব্যপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতগুলো ওয়াকফভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার যথাযথ হিসাবটি আজও পর্যন্ত হয় নি। জরিপের ব্যাপারে আইনি দুর্বলতা এবং পদক্ষেপের অবহেলাও এর জন্য বিশেষভাবে দায়ী। এব্যাপারেও প্রশাসনকে আরো গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য ওয়াকফকৃত সম্পদসমূহ অনেকটা স্থবির অবস্থার শিকার। ওয়াকফ স¤পত্তির মাকসাদ হলো, সদাকা জারিয়া এবং স্থায়ীভাবে তা থেকে উপকার লাভ করা। সেহেতু ওয়াকফের আয় বৃদ্ধির যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে মাকসাদ পরিপূর্ণ সফল হবে না। এক্ষেত্রে বিনিয়োগের শরীয়াহ সম্মত আধুনিক উপায়গুলো অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *