ফরেক্স  ব্যবসায় : পরিচিতি ও শরয়ী বিধান

ফরেক্স  ব্যবসায় : পরিচিতি ও শরয়ী বিধান

মাওলানা  আব্দুল্লাহ মাসুম। 

সহকারী মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামেয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ,ঢাকা-১২১৭

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সকল প্রশংসা  মহান আল্লাহ তায়ালার। অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবায়ে কেরামের উপর।

সেই আদিকাল থেকেই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা  পৃথিবীতে প্রাণীকুল বেঁচে থাকার সকল উপাদান গচ্ছিত রেখেছেন। রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন। এরপর আদেশ করেছেন নিজের প্রয়োজনীয় রিযিক তালাশ করে নেয়ার জন্য।

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছে, (তর্জমা) “ নামায আদায় করার পর তোমরা রিযিকের উদ্দেশ্যে ভূ-পৃষ্টে ছড়িয়ে পড়ো। তালাশ করে নাও (রিযিক দাতা আল্লাহ পাক থেকে) আল্লাহর ফযল তথা রিযিক, যাতে তোমরা সফলকাম হও” (-সূরা জুম’য়া:১০)

শুধু তাই নয়, রিযিক অন্বেষণের অসংখ্যা পথের মধ্যে কোনটি কল্যাণকর, বৈধ আর কোনটি অকল্যাণকর,অবৈধ সেটাও বলে দেয়া হয়েছে। যেমন : সুদ , ঘোষ, রাহাজানী, চুরি এসব অবৈধ পথ। এর বিপরীতে মৌলিক ব্যবসায় রিযিক অন্বেষণের একটি বৈধ পথ। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, “ আল্লাহ তায়ালা ব্যবসায়কে করেছেন হালাল,আর সুদকে করেছেন হারাম।” (-সূরা বাকারা:২৭৫)

ইসলামের শুরু থেকে প্রতি যুগে রিযিক অন্বেষণের বিভিন্ন পথ উদ্ভাবন হয়েছে। বিজ্ঞ ফকীহগণ শরীয়তের নীতিমালার আলোকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন ওগুলোর মধ্যে কোনটি বৈধ, আর কোনটি অবৈধ।

ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর আয়-উপার্জনের বিভিন্ন পথ ও পন্থা খুব বেশি উদ্ভাবিত হয়েছে। কিভাবে সামান্য পরিশ্রমে অধিক উপার্জন করা যায়। কোন পথে অল্প পুঁজি দিয়ে অধিক মুনাফা কামানো যায়। এ প্রচেষ্টা  দিন যত যাচ্ছে তত বাড়ছে। শেয়ার বাজার, ব্যাংক ও বীমার আধুনিক রূপ এরই ফল।

ফরেক্স ব্যবসায় এমনি একটি সাম্প্রতিককালে উদ্ভাবিত আয় উপার্জনের এক অভিনব পন্থা। বর্তমান সময়ের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম ব্যপকভাবে এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। অন লাইনে এর ব্যপক চর্চা হচ্ছে । বাংলা ওয়েবসাইট ও ব্লগগুলোতে এ নীয়ে বেশ লেখালেখিও হচ্ছে। এতে অন্যান্য মানুষের ন্যায় দ্বীনদার শ্রেনীর কিছু লোকও এর শরয়ী হুকুম না জেনে-না বুঝে এর সাথে জড়িয়ে পড়ছেন।

প্রত্যেক মুসলিমের উচিত কোন কারবার বা লেনদেন করার আগে,উক্ত লেনদেন ও কারবার শরীয়াহ সম্মত কি না তা জেনে নেওয়া।

ফতোয়া বিভাগে কর্মরত থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ অনেকেই অধমের নিকট এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।

যে কোন নতুন বিষয়ে শরয়ী সমাধান পেশ করার আগে সেই বিষয়টি ভালভাবে বোঝার বিকল্প নেই। ফরেক্স বিজনেস বোঝার জন্য অধম লেখক এ সংক্রান্ত বই-পত্র,আর্টিকেল পড়ার পাশাপাশি এ ব্যবসার সাথে জড়িত অভিজ্ঞ লোকদের সাথে সরাসরি কথাও বলেছি।

এমনকি ফরেক্স শিখানো হয়-এমন একটি ট্রেডিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাসও করেছি। এসব কিছুর উদ্দেশ্য একটিই,তা হল, লেনদেনটির আসল রূপ ভালভাবে রপ্ত করা।

প্রবন্ধটি লেখার পর,কয়েকজন ফরেক্স ট্রেডারকে দেখিয়েছি। তারা বই-এ উল্লেখিত ফরেক্স চিত্রের সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইতিমধ্যে অন-লাইনের মাধ্যমে অনেকের কাছেই অধমের এ গবেষণা পেীঁছে গেছে। গবেষণাটি পড়ে ফরেক্স ট্রেড করতেন এমন কিছু ভাই অধমকে ফোন করে জানিয়েছে,তারা তাওবা করেছেন,আর এ পথে হাঁটবেন না। আল্লাহ পাক সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন।

বক্ষমাণ প্রবন্ধে কুরআন-হাদীস ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলারগণের বক্তব্যের আলোকে উক্ত ফরেক্স ব্যবসায়ের শরয়ী হুকুম নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন।

ফরেক্স কী:

ফরেক্স ট্রেড সম্পর্কে লিখিত বিভিন্ন বই-পুস্তক,আর্টিকেল ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নি¤েœ ফরেক্স ও ফরেক্স ট্রেড এর পরিচিতি তুলে ধরা হল-

‘ফরেক্স’  শব্দটি ইংরেজী। Forex হল– Foreign currency Exchange সংক্ষেপে Forex বা FX   অর্থাৎ বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়। যেমন, আমরিকা বা ইউ.এস.এর কারেন্সি হল,ডলার। ব্রিটেন বা ইউ.কে.এর কারেন্সি হল, পাউন্ড। ডলার ও পাউন্ড একটির সাথে অপরটির লেনদেনই হল ফরেক্স।

প্রথম দিকে কেবল প্রত্যেক দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংকগুলোর  মধ্যে ফরেক্স   হত।  তা এখনো আছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের স্বার্থে কেন্দ্রিয় ব্যাংকগুলো তা করতে বাধ্য।

এরপর একটা পর্যায়ে সেন্ট্রাল ব্যাংক ছাড়াও দেশের অন্যান্য ব্যংকের জন্য ফরেক্স বা বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের অনুমতি দেয়া হয়। বড় বড় ব্যাংকগুলি প্রতিদিন কয়েকশত ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করে থাকে। কারণ,বৈদেশিক লেনদেন ডলার (ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক কিছু মুদ্রা) ছাড়া সম্ভব নয়।

ব্যাংকের পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত কিছু মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানও ফরেক্স করে থাকে।

এছাড়া সাধারণত আমাদের দেশে অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য কিংবা ব্যাক্তিগতভাবে ফরেক্স বা বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন আইনত নিষিদ্ধ।

 

মোট কথা, ঐতিহ্যগতভাবে ফরেক্স করে সেন্ট্রাল ব্যাংক ,অনুমোদিত কমার্শিয়াল ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি। তারা সকলেই রিয়েল কারেন্সি বা বাস্তব মুদ্রার লেনদেন করে থাকে।

উক্ত ফরেক্সকে ট্রেড বা  ব্যবসায়ে রূপদান:

বৈদেশিক মুদ্রার দাম ঘন ঘন উঠা-নামার দরুন পশ্চিমার পূজিঁবাদীরা এর মাধ্যমে ব্যবসায় করার উদ্যোগ নেয়। এক অভিনব ব্যবসায় আবিষ্কার করে তারা। এ ব্যবসায় বাস্তব কোন মুদ্রার লেনদেন হয় না। রিয়েল কারেন্সি হাতিয়ে নেয়া এখানে উদ্দেশ্য থাকে না। বরং দুটি বৈদেশিক মুদ্রার দাম উঠা নামার পার্সেন্ট,তফাৎটা থাকে উদ্দেশ্য। এটি ব্রোকারের মধ্যস্থতায় সম্পন করতে হয়। যেমনটি শেয়ার মার্কেটে হয়ে থাকে।

উক্ত ফরেক্স ট্রেডই  হল আমাদের আলোচ্য বিষয়। অনলাইনের মাধ্যমে তা সম্পন্ন হয়।  বর্তমানে ফরেক্স ট্রেড বলতে এটিই বুঝানো হয়ে থাকে। একে ফরেক্স বিজনেসের আধুনিক রূপ বলা হয়।

কিছু কিছু দেশে মাত্র এক দশক আগে জনগণের জন্য  উক্ত ফরেক্স ট্রেডের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই এর সাথে জড়াচ্ছেন। (-ফরেক্স, সৈয়দ হাসান মাহমুদ।|http://www.streetdirectory.com)

একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশে খুচরা ব্যবসায়ী হিসাবে প্রায় ৭০হাজার মানুষ এই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত

এবার  আমরা বিশদভাবে উক্ত ব্যবসায়ের পদ্ধতি উল্লেখ করবো।

যেভাবে অনলাইন ফরেক্স ব্যবসায় শুরু করা হয়:

ফরেক্স বিজনেস করতে প্রাথমিক যে সরঞ্জামাদি লাগে  এবং যে ধাপগুলো অতিক্রম করতে হয় সংক্ষেপে তা হল,

১ম ধাপ:

এ ব্যবসায় সবকিছুই করতে হয় অনলাইনে। একাউন্ট ওপেনিং থেকে নিয়ে ডিপজিট, উইথড্র সব অনলাইনে সম্পন্ন করতে হয়। তাই ফরেক্স ব্যবসায়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান হল,

ক/একটি কম্পিউটার বা লেপটপ, কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার উপযোগী অন্য কোন ডিভাইস।

খ/একটি ইন্টারনেট সংযোগ।

গ/ কিছু ডলার। ফরেক্স ট্রেড শুরু করার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী একটি উপাদান। একে ডিপজিটও বলা হয়। শুরুতে সাধারণত অন্তত ১ হাজার রিয়েল ডলার  ডিপজিট করতে হয়। । ট্রেডের জন্য যে ব্রোকারকে গ্রাহক চয়েজ করবে তার নিকট ওই ডিপজিট পৌঁছে দিতে হবে।  ব্রোকরের অন লাইন  সাইটেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ের লিংক দেয়া থাকবে। যেমন, Alertpay,skrill,neteller

এদের কোন একটির মাধ্যমে ডিপজিট পৌঁছে দিতে হবে। এটি এমন যেমন শেয়ার বাজারে ব্রোকারের নিকট ভিও একাউন্টধারীর ডিপজিট থাকে। এই ডিপজিটটা নিরাপত্তা মানি স্বরূপ। ট্রেডারের লাভ হলে তা এই একাউন্টেই যোগ হবে। আর লস হলে এখান থেকে বিয়োগ হয়ে তা ব্রোকারের একাউন্টে চলে যাবে।

২য় ধাপ: কোন একটা ফরেক্স ব্রোকারের সাইট থেকে একাউন্ট ওপেন করতে হবে। এটা অনেকটা ব্যাংক এ্যাকাউন্ট ওপেন করার মতই। ব্রোকারের নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হবে।

সাধারণত সবগুলো ব্রোকার সাইটই দু ধরনের এ্যাকউন্ট ট্রেডের সুবিধা দিয়ে থাকে।

এক. ডেমো এ্যাকাউন্ট এবং ডেমো ট্রেড। এটির উদ্দেশ্য হল, বাস্তব ব্যবসায় নামার আগে প্রেকটিস করে নেয়ার জন্য।

দুই. রিয়েল এ্যাকাউন্ট এবং রিয়েল ট্রেড।

৩য় ধাপ: এরপর ট্রেড করার জন্য “Mata trader- 4” নামক একটি সফটওয়্যার ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। এটি ফরেক্স ট্রেড করার একটি অনলাইন প্লাটফর্ম । এটি ছাড়া ট্রেড সম্ভব নয়। উপরোক্ত কোন এক ধরনের এ্যাকাউন্ট খোলার পরই তা কাজ করবে।

যেই ব্রোকার সাইটে এ্যাকাউন্ট খোলা হবে তারা একটি এ্যাকাউন্ট নাম্বার ও পাসওয়ার্ড দিবে। এ দুটি “Mata trader- 4” এ ইনপুট করার পরই ওই প্লাটফর্মে ঢোকা যাবে। একে ‘ট্রেড টার্মিনাল’ও বলা হয়।

প্রকাশ থাকে যে, ফরেক্স ট্রেডের সব ব্রোকার ভিন দেশের। আমাদের দেশে ফরেক্স বিজনেসের কোন ব্রোকার নেই।

লিকিইউটি প্রোভাইডার

ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের সাথে লিকিউইটি প্রোভাইডার কোন কোম্পানির লিংক থাকে।  যেমন, Mtrading নামক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের লিকিউইটি প্রোভাইডার হল, Barclays capital bank

 

তাদের ওয়েব সাইটের  এ্যাড্রেস: WWW.barclays.com ।

এই ব্যাংক Mtrading এর ব্যবসায়ীক পার্টনার। ব্রোকার যে স্প্রেড বা কমিশন পেয়ে থাকে এর একটা আংশ ওই পার্টনারও পেয়ে থাকে।

ওই ব্যাংক আবার লিংকেট বা রেগুলেটেড হল F.C.A.( Financial Security Authority) এর সাথে । যেমন আমাদের দেশের ব্যাংক রেগুলেটেড থাকে সেন্ট্রাল ব্যাংকের সাথে।

একটা ব্রোকার হাউজ খুলতে হিউজ পরিমাণ ডলার নিরাপত্তার জন্য  F.C.A এর নিকট জমা করতে হয়। এটিই গ্রাহককে নিরাপত্তা প্রদান করে।

উক্ত আলোচনার আলোকে ফরেক্স ট্রেডের প্রাথমিক বিন্যাস হচ্ছে নি¤œরুপ-

বাংলাদেশী ফরেক্স ট্রেডারের টাকা।

টাকাকে ডলায় রূপান্তর।

ফরেক্স ব্রোকার নির্বাচন।

SKRILL (আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে)  বা অন্যকোন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে উক্ত ডলার ফরেক্স ব্রোকারে ডিপজিট করা।

ব্রোকার হাউজ সাধারণত কোন একটা ব্যাংকের সাথে রেগুলেটেড থাকবে। যেমন, Mtrading রেগুলেটেড Barclays capital bank

ব্যাংক F.C.A.এর সাথে রেগুলেটেড থাকবে। যেমন Barclays capital bank ,F.C.A..এর সাথে রেগুলেটেড ।

 

তাহলে দেখা যাচ্ছে, এখানে এক পক্ষ হল, ফরেক্স ট্রেডার। দ্বিতীয় পক্ষ হল, ব্রোকার ও তার পার্টনার লিকিইউটি প্রোভাইডার তথা ব্যাংক। উল্লেখ্য,সব ব্রোকার যে লিকিইউটি প্রোভাইডারের সাথে লিংকেড থাকে বিষয়টি এমন নয়। অনেক ব্রোকার কোন ব্যাংকের সাথে লিংকেড থাকে না। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় পক্ষ কেবল ব্রোকার ।

উল্লেখ্য, অনেক অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ আছে।

ফরেক্স মার্কেটের কারেন্সি

ফরেক্স মার্কেটে লেনদেনের মূল বিষয় হল, কারেন্সি। এ নিয়ে বিশদ আলোচনা করা প্রয়োজন। কারণ ফিকহী বিশ্লেষণ অনেকাংশেএর উপরই নির্ভর।

ফরেক্স কারেন্সি সংকেত:

ফরেক্স মার্কেটে কারেন্সিকে  পূর্ণ নামে ডাকা হয় না। প্রত্যেকটি কারেন্সিকে তিনটি রেফারেন্স কোড (ও.ঝ.ঙ.ঈঙউঊ) এর মাধ্যমে ডাকা হয়। এক্ষেত্রে প্রথম দুটি কোড হল,মুদ্রাটি যে দেশের ওই দেশের নামের সংক্ষিপ্ত রূপ। আর শেষ কোডটি হল, মুদ্রার নামের প্রথম অক্ষর। যেমন,USD=UNITED STATES DOLLAR, GBP=GREAT BBRITAIN POUND

EUR Currency=ইউরোপিয়ান জোনের অফিসিয়াল কারেন্সির নাম। ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন এর ২৮টি সদস্যা রাষ্ট্রের মধ্য থেকে ১৯ টি দ্বারা এই ইউরো জোন ঘটিত হয়েছে। EURO এর কোড হল, EUR।এর সংকেত হল: €

কারেন্সি পেয়ার(Currency pair):

ফরেক্স বাজারে একটি কারেন্সি দ্বারা আরেকটি কারেন্সি ক্রয় করা হয়, অপরটি বিক্রয় হয়। অতএব এখানে দুটি মুদ্রার লেনদেন হচ্ছে। একেই বলে একটি মুদ্রা জোড়া বা কারেন্সি পেয়ার। ফরেক্স মার্কেটে প্রত্যেকটি মুদ্রা জোড়া আকারে থাকে। যেমন,এভাবে- EUR/USD

প্রতিটি জোড়া মুদ্রা একে অপরের সাথে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। যেমন,EUR/USD নিয়ে ট্রেড করলে  মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় হবে EUR USD এর মধ্যে।

উল্লেখ্য,ফরেক্স মার্কেটে মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়কে বলে ‘ট্রেড’। ‘ট্রেড’ হল,একটি আকদে মুকাম্মাল এর নাম। চাই তা ক্রয়ের হোক বা বিক্রয়ের। শেয়ার বাজারেও এ পরিভাষা প্রচলিত।

কারেন্সি পেয়ারের প্রকার:

কারেন্সি পেয়ার দু’ ধরনের হয়, এক হল: ইউ .এস. ডলারের সাথে যুক্ত হয়ে মুদ্রা জোড়া তৈরি হয়। এ ধরনের জোড়াকে বলে সেন্ট্রাল কারেন্সি। এগুলোই বেশ জনপ্রিয়। আর বাকীগুলোকে বলে ক্রোস  কারেন্সি (CROSS CURRENCY) ।

বেস কারেন্সি ও কাউন্টার কারেন্সি:

সহজ কথায় জোড়া মুদ্রার প্রথমটিকে বলে বেস (Base) কারেন্সি। আর দ্বিতীয়টিকে বলে কাউন্টার বা কুয়াইট (counter/quote) কারেন্সি।

 

কারেন্সি ভ্যলূ বা মুদ্রার মান:

ফরেক্সে প্রত্যেকটি মুদ্রা জোড়ার মান দেয়া থাকে। এটি এভাবে দেয়া থাকে-(যেমন)- EUR/USD=1.4621

ফরেক্স ট্রেডে প্রত্যেক মুদ্রা জোড়ার বেস কারেন্সির মান =১

আর বাকি যে সংখ্যা থাকে সেটা হল,বেস কারেন্সির মূল্য।

তাহলে  উপরের উদাহারণে অর্থ হল, বেস কারেন্সি তথা এক ইউরো ক্রয় করতে লাগবে ১.৪৬২১ ডলার।

অথবা বলুন, কারেন্সি পেয়ারের প্রথম কারেন্সি নির্দেশ করে তা দিয়ে আপনি কত পরের কারেন্সিটা পাবেন। দুই ভাবেই বলা যায়। কারণ এক কারেন্সির সাথে অপর কারেন্সি লেনদেনে প্রত্যেকটা অপরটার ভেলূ বা মূল্য বুঝায়।…………..

বিঃ দ্রঃ এটি এই আর্টিকেলের সংক্ষিপ্ত ভার্সন, বিস্তারিত জানতে এখানে পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *